ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহে ধান-চাল সংগ্রহে বড় লক্ষ্য-৭০ হাজার টন ধান

মঙ্গলবার (৫ মে) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম।

চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ধান ও চাল সংগ্রহে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ মৌসুমে মোট ৭০ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন ধান এবং ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব থেকে কৃষকদের সুরক্ষা দিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। হাওরাঞ্চলে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে ৩ মে থেকে এবং অন্যান্য এলাকায় তা শুরু হবে ১৫ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ধান ও গম সংগ্রহও শুরু হয়েছে ৩ মে থেকেই।

সরকার নির্ধারিত দরে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং গম ৩৬ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। চলতি মৌসুমে বিভাগের ৩৩টি উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। অন্যদিকে ‘ডিজিটাল চালকল ব্যবস্থাপনা’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত উপজেলাগুলোতে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হলো—ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলপুর, নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, মদন, জামালপুর সদর, শেরপুর সদর ও ঝিনাইগাতী।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী জিয়াউল বাসেত বলেন, ধান উৎপাদনে সারাদেশে ময়মনসিংহের অবস্থান শীর্ষে। তাই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

এছাড়া কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে তারা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা হয়রানির শিকার না হন।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকদের সুরক্ষা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বোরো মৌসুমের সংগ্রহ কার্যক্রম সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহে ধান-চাল সংগ্রহে বড় লক্ষ্য-৭০ হাজার টন ধান

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ধান ও চাল সংগ্রহে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ মৌসুমে মোট ৭০ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন ধান এবং ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব থেকে কৃষকদের সুরক্ষা দিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। হাওরাঞ্চলে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে ৩ মে থেকে এবং অন্যান্য এলাকায় তা শুরু হবে ১৫ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ধান ও গম সংগ্রহও শুরু হয়েছে ৩ মে থেকেই।

সরকার নির্ধারিত দরে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং গম ৩৬ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। চলতি মৌসুমে বিভাগের ৩৩টি উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। অন্যদিকে ‘ডিজিটাল চালকল ব্যবস্থাপনা’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত উপজেলাগুলোতে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হলো—ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলপুর, নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, মদন, জামালপুর সদর, শেরপুর সদর ও ঝিনাইগাতী।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী জিয়াউল বাসেত বলেন, ধান উৎপাদনে সারাদেশে ময়মনসিংহের অবস্থান শীর্ষে। তাই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

এছাড়া কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে তারা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা হয়রানির শিকার না হন।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকদের সুরক্ষা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বোরো মৌসুমের সংগ্রহ কার্যক্রম সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।