
জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনীমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “বরেন্দ্র এলাকা স্থিতিস্থাপক ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন (BARIND)” প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-এর আয়োজনে রাজশাহীর একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন। সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি (অতিরিক্ত সচিব)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হাসান জাফির তুহিন বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম কৃষি-পরিবেশগতভাবে প্রতিকূল এলাকা হিসেবে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, বারবার খরা, ভূমি অবক্ষয় এবং পানি সম্পদের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ এ অঞ্চলের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, সরকার দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বারিন্দ প্রকল্পটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কৃষিকে আরও লাভজনক করে সাধারণ মানুষের কাছে স্বল্প খরচে পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এডিবি, ওডিজি এবং বিএমডিএ’র যৌথ উদ্যোগে গৃহীত এই প্রকল্প বারিন্দ অঞ্চলের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রকল্পটি পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “বারিন্দ প্রকল্প কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি এ অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ।” তিনি জানান, বিএমডিএ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বারিন্দ অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করে গড়ে তুলতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএমডিএ সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বারিন্দ প্রকল্পের ফোকাল পার্সন মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, বারিন্দ অঞ্চল দেশের অন্যতম খরাপ্রবণ এলাকা এবং এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন, পানি সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিএমডিএ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। তিনি জানান, এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাস্তব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের পথ নির্ধারণ করা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন IWM-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. সোহেল মাসুদ, এডিবি’র প্রিন্সিপাল ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইকোনমিস্ট শিঙ্গো কিমুরা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী সারোয়ার জাহান, এডিবি’র প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. তাকাশি ইয়ামানো, রুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নেয়ামুল বারি এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম।
কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। BMDA, ADB, DASCO, RUET, LGED, BWDB, WARPO, MOF ও MOA-এর প্রতিনিধি, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী ও কৃষকসহ প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপস্থাপন করেন।
সৈয়দ মাসুদ রাজশাহী 























