
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে পুরো জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা। বিচার না পেয়ে রাস্তায় নেমে আসা সাংবাদিকদের কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন-“গণমাধ্যমকর্মীরাই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে ছাত্র-জনতা, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চ্যানেল আই এর প্রতিনিধি ও দৈনিক চাঁপাই দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক চাঁপাই চিত্রের সম্পাদক কামাল উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাব ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন জুয়েল, সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান, মাছরাঙা টেলিভিশন সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন দিলু, দেশ টিভি’র সাংবাদিক ফারুক আহমেদ, হামলার শিকার মাই টিভির সাংবাদিক তারেক আজিজ, চ্যানেল ওয়ান ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক তারেক রহমান। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিলিশনের প্রতিনিধি ফয়সাল মাহমুদ।
এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও এনটিভির প্রতিনিধি শহীদুল হুদা অলক, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি নাসিম মাহমুদসহ জেলার শতাধিক বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা অংশ নেয়।
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখে, মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে-আজ তারাই বিচার চেয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে। এটি শুধু লজ্জাজনক নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।”
সভায় অভিযোগ ওঠে, ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামি রাব্বিসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি ‘আইওয়াশ’ করতে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে অন্যদের গ্রেফতারের অভিযোগও তোলা হয় পুলিশের বিরুদ্ধে।
প্রেসক্লাব সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,“আমরা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি বদলেছে, পুলিশ বদলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো-সেই পুরনো চিত্রই রয়ে গেছে। পরিবর্তনের কোনো ছাপ আমরা দেখছি না।”
আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, কিছু সন্ত্রাসীকে পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবে ব্যবহার করার কারণে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল রাত সোয়া ১০টার দিকে জেলা শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে চায়ের স্টলে বসে থাকাকালে চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধি তারেক রহমান ও মাই টিভির প্রতিনিধি তারেক আজিজের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ৯টি মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাব্বির নেতৃত্বে ৬-৭ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। ভাঙা কাপ, চেয়ার দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় তাদের। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার রাতেই সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের হলেও ৬ দিনেও মূল আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।
শুধু জেলা শহর নয়, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাটেও সাংবাদিকরা একই দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে পুরো জেলায় এক ধরনের প্রতিবাদের ঢেউ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়-“৭২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেফতার না করা হলে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 























