ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা অটোচোর চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহ শিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও ৩ গ্রেফতার “অধিক দুধ, অধিক মাংস” স্লোগানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে খামারি প্রশিক্ষণ টাকার দেনা চাওয়ায় অধ্যক্ষের ঘুষি,ভাঙল কম্পিউটার অপারেটরের দুই দাঁত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, ভোট ৩ জুলাই দেশে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে হাম আতঙ্ক চালককে মারধরের প্রতিবাদে নওগাঁ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সরকারের অঙ্গীকার- প্রধানমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহ শিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পৌর এলাকার রাজারামপুর একটি বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শহরে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিনের মাথায় গৃহ শিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নিতেই নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পৌর এলাকার রাজারামপুর মহল্লার অধিরল্যাংড়ার মোড় চৌকাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম বেগম পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা ও মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর গৃহ শিক্ষিকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে মরিয়ম বেগম চৌকাপাড়ার বাসিন্দা মো. রুবেল ও তার স্ত্রী সুমি খাতুনের বাড়িতে তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে যান। কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় রাতেই মরিয়মের ছেলে মারুফ হোসেন বনি সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের ছেলে মারুফ হোসেন বনি অভিযোগ করে বলেন, “রাতেও আমরা মাকে খুঁজতে রুবেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন তারা বলেছিল, প্রাইভেট পড়ানো শেষে মা চলে গেছেন। কিন্তু আজ সকালে জানতে পারি, মায়ের মরদেহ তাদের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে।”

ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানান, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো—৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন রুবেল নিজেই। পরে তার বাড়ির ভেতর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন পিপিএম জানান, নিহতের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে সুমি খাতুন, তার স্বামী রুবেল এবং স্বর্ণকার দিপককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলে তারা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। অনেকেই বলছেন, পরিচিত মানুষের বাড়িতে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা পুরো শহরকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা অটোচোর চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহ শিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

প্রকাশের সময়ঃ ০২:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শহরে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিনের মাথায় গৃহ শিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নিতেই নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পৌর এলাকার রাজারামপুর মহল্লার অধিরল্যাংড়ার মোড় চৌকাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম বেগম পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা ও মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর গৃহ শিক্ষিকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে মরিয়ম বেগম চৌকাপাড়ার বাসিন্দা মো. রুবেল ও তার স্ত্রী সুমি খাতুনের বাড়িতে তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে যান। কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় রাতেই মরিয়মের ছেলে মারুফ হোসেন বনি সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের ছেলে মারুফ হোসেন বনি অভিযোগ করে বলেন, “রাতেও আমরা মাকে খুঁজতে রুবেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন তারা বলেছিল, প্রাইভেট পড়ানো শেষে মা চলে গেছেন। কিন্তু আজ সকালে জানতে পারি, মায়ের মরদেহ তাদের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে।”

ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানান, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো—৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন রুবেল নিজেই। পরে তার বাড়ির ভেতর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন পিপিএম জানান, নিহতের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে সুমি খাতুন, তার স্বামী রুবেল এবং স্বর্ণকার দিপককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলে তারা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। অনেকেই বলছেন, পরিচিত মানুষের বাড়িতে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা পুরো শহরকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।