
ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় রানা মিয়া (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম মাহিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় রানা মিয়া তার ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), পিতা: মফিদুল ইসলাম মাস্টার,তোফাজ্জল হোসেন (৪০), পিতা: মৃত আলী হোসেন,মো. হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩), পিতা: তোফাজ্জল হোসেন,মনিরুল ইসলাম (২৪), পিতা: চাঁন মিয়া।
তাদের সকলের বাড়ি চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কোতোয়ালী মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রানা মিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নিহতের পরিবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 

















