ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

আইভীর বাসার সামনে ক্যামেরা, নজরে রাজনৈতিক কার্যক্রম

ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। সংগৃহীত ছবি

 নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক  মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসার সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা পুলিশ। কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসভবনে ফেরার পরপরই বাড়ির সামনের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু আইভীর বাসাকে কেন্দ্র করে নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এর আওতায় আইভীর বাসার আশপাশেও একাধিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই এলাকায় মোট চারটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক মেয়রের সঙ্গে সাধারণ মানুষ বা শুভানুধ্যায়ীরা দেখা করতে পারবেন। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে। আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবার গভীর রাতে নিজ বাসভবনে ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর থেকেই আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। পাশাপাশি টেলিফোনেও খোঁজখবর নিচ্ছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইভী জানান, দীর্ঘদিন পর বাড়িতে ফিরে তিনি আবেগাপ্লুত। বিশেষ করে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল— সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং শুভানুধ্যায়ীরা তার বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আইভীর পারিবারিক খানকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কারাবাসের সময় নিজের জন্য দোয়া করার বিষয়টিও তিনি উপস্থিতদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে কয়েকটি মামলায় হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে জামিন বহাল থাকে। সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর অনুষ্ঠিত টানা তিনটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও আলোচিত একটি নাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইভীর বাসার সামনে ক্যামেরা, নজরে রাজনৈতিক কার্যক্রম

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫০:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

 নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক  মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসার সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা পুলিশ। কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসভবনে ফেরার পরপরই বাড়ির সামনের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু আইভীর বাসাকে কেন্দ্র করে নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এর আওতায় আইভীর বাসার আশপাশেও একাধিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই এলাকায় মোট চারটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক মেয়রের সঙ্গে সাধারণ মানুষ বা শুভানুধ্যায়ীরা দেখা করতে পারবেন। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে। আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবার গভীর রাতে নিজ বাসভবনে ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর থেকেই আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। পাশাপাশি টেলিফোনেও খোঁজখবর নিচ্ছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইভী জানান, দীর্ঘদিন পর বাড়িতে ফিরে তিনি আবেগাপ্লুত। বিশেষ করে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল— সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং শুভানুধ্যায়ীরা তার বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আইভীর পারিবারিক খানকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কারাবাসের সময় নিজের জন্য দোয়া করার বিষয়টিও তিনি উপস্থিতদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে কয়েকটি মামলায় হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে জামিন বহাল থাকে। সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর অনুষ্ঠিত টানা তিনটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও আলোচিত একটি নাম।