
রংপুরের হোটেল শ্রমিক ও সহকারী বাবুর্চি শাওন হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হোটেল মালিক মনুর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী নিহত শাওনের আজীবন সম্ভাব্য আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বিকেল ৫টায় দেশব্যাপী ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ, রাজশাহী জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড ফিরোজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক মিঠুন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহুরুল ইসলাম। এছাড়াও হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের বিভিন্ন শ্রমিক নেতা ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, রংপুরে সহকারী বাবুর্চি শাওনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি শ্রমিক নির্যাতনের চরম দৃষ্টান্ত। এ ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করে অভিযুক্ত হোটেল মালিক মনুর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী নিহত শাওনের পরিবারের জন্য তার আজীবন সম্ভাব্য আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের অধিকাংশ শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে চরম শোষণ ও বৈষম্যের শিকার। সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি অনেক প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা হয় না। অধিকাংশ শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র ছাড়াই কাজ করতে হয়, ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়, অথচ অতিরিক্ত কাজের কোনো ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না।
তারা সরকারের প্রতি দ্রুত হোটেল শিল্পে শ্রম আইন কার্যকর, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন, মালিকপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেক শ্রমিককে পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নিশ্চিতকরণ, সাপ্তাহিক ছুটি, ওভারটাইম ভাতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে এবং শাওন হত্যার বিচার বিলম্বিত হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা বলেন, “শ্রমিকের রক্তের বিচার এবং শ্রমিকের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 


















