ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
আটক লোকমানকে নিয়ে বিতর্ক

আওয়ামী লীগ বলছে তাদের নেতা, বিএনপি বলছে তাদের কর্মী

গাজীপুরের শ্রীপুরে আটক লোকমান হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি চলছে। ফাইল ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের হাতে আটক লোকমান হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি উঠেছে। আওয়ামী লীগ ও পুলিশ তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে চিহ্নিত করলেও বিএনপি তাকে নিজেদের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেছে। রোববার রাতে আটকের প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে মুচলেকা দিয়ে তাকে শ্রীপুর থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

লোকমান হোসেন শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা।

কেন আটক করা হয়েছিল?

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দলটির নেতাকর্মীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এ সময় লোকমান হোসেনের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি এবং দলীয় কমিটির তালিকায় তার নাম পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।

মুচলেকায় মুক্তি

ওসি জানান, আটকের পরপরই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদসহ কয়েকজন নেতা থানায় এসে লোকমানকে নিজেদের কর্মী দাবি করেন এবং বিএনপির কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের প্রমাণ উপস্থাপন করেন। পরে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার স্বাক্ষর করেন।

বিএনপির বক্তব্য

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ স্বীকার করেন, লোকমান হোসেন আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলের নানা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার নাম থাকার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব বলেন, লোকমান বর্তমানে বিএনপির কর্মী এবং গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগের অবস্থান

অন্যদিকে পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লোকমান হোসেন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি। কমিটির তালিকায় তার নাম রয়েছে এবং দলীয় বিভিন্ন দিবসে তার ছবিসহ পোস্টার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

আটক লোকমানকে নিয়ে বিতর্ক

আওয়ামী লীগ বলছে তাদের নেতা, বিএনপি বলছে তাদের কর্মী

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের হাতে আটক লোকমান হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি উঠেছে। আওয়ামী লীগ ও পুলিশ তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে চিহ্নিত করলেও বিএনপি তাকে নিজেদের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেছে। রোববার রাতে আটকের প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে মুচলেকা দিয়ে তাকে শ্রীপুর থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

লোকমান হোসেন শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা।

কেন আটক করা হয়েছিল?

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দলটির নেতাকর্মীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এ সময় লোকমান হোসেনের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি এবং দলীয় কমিটির তালিকায় তার নাম পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।

মুচলেকায় মুক্তি

ওসি জানান, আটকের পরপরই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদসহ কয়েকজন নেতা থানায় এসে লোকমানকে নিজেদের কর্মী দাবি করেন এবং বিএনপির কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের প্রমাণ উপস্থাপন করেন। পরে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার স্বাক্ষর করেন।

বিএনপির বক্তব্য

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ স্বীকার করেন, লোকমান হোসেন আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলের নানা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার নাম থাকার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব বলেন, লোকমান বর্তমানে বিএনপির কর্মী এবং গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগের অবস্থান

অন্যদিকে পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লোকমান হোসেন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি। কমিটির তালিকায় তার নাম রয়েছে এবং দলীয় বিভিন্ন দিবসে তার ছবিসহ পোস্টার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।