
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাশকতার মামলায় জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী ও রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের। তিনি একটি নাশকতা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অভিযুক্ত রয়েছেন।
এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান প্রচার সম্পাদক এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুজার গিফারীকে (২৬) পৌর এলাকার মসজিদপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মো. হবি ও মোছা. মিনু বেগমের ছেলে।
একই অভিযানে শিবগঞ্জ উপজেলার টোরবোনা মধ্যপাড়া এলাকার মো. কবির হোসেনের ছেলে মো. ওসমান (১৭) এবং নয়লাভাঙ্গা মোড়লপাড়া এলাকার মো. কায়েম উদ্দিনের ছেলে মো. মিরাজকে (১৫) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারাও নাশকতা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি, নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন থানার সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে এ চারজনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত কয়েকজন থাকায় বিষয়টি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ছাত্রলীগ নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাশকতার মামলার চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারী কিংবা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
পুলিশের দাবি, অপরাধ দমন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এবং নাশকতার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 























