ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাবেন মির্জা ফখরুল ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট মা, পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন ১১ বছরের শিশুর সন্তানের সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএ মিল জামায়াত এমপি শাহজাহানের পিএসের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা ৫ হাজার ৩১০ ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই ও সহযোগী গ্রেপ্তার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ- আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর মাগুরার আলোচিত শিশু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ জিম্মার শর্ত ভঙ্গ, বন বিভাগের হেফাজতে ফিরল ‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’ রংপুরে চার খুন-ময়নাতদন্তে মিলল শ্বাসরোধের আলামত

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা- বিয়ের আগেই থেমে গেল আগামী চক্রবর্তীর স্বপ্ন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৫৭ Time View

বিয়ের আগেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে থেমে গেল কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তীর স্বপ্ন

বিয়ের তারিখ আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। দুই পরিবারে চলছিল নতুন জীবনের প্রস্তুতি। কিন্তু নির্মম হত্যাকাণ্ডে বিয়ের আগেই থেমে গেল রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী (প্রার্থী) চক্রবর্তীর জীবন।

আগামী চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তাঁর হবু স্বামী অদিত করের একটি আবেগঘন পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্টে আগামী ও অদিতের একটি ছবিসহ হৃদয়বিদারক বার্তা তুলে ধরা হয়।

পোস্টে অদিত কর লেখেন, তাঁর জীবনের শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়ে গেল। তিনি জানান, ছবিটি বুধবারের—সেদিন আগামীর অনুরোধেই তাঁরা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ছবি তোলেন। আবেগঘন ওই পোস্টে অদিত লেখেন, “চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকব।”

দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল পুরোদমে। কিন্তু নতুন জীবনে পা রাখার আগেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আগামী ও তাঁর পরিবারের সেই স্বপ্ন চিরতরে থেমে যায়।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ কমিশনারের দাবি অনুযায়ী, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়, এরপর একে একে হত্যা করা হয় তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাবেন মির্জা ফখরুল

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা- বিয়ের আগেই থেমে গেল আগামী চক্রবর্তীর স্বপ্ন

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বিয়ের তারিখ আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। দুই পরিবারে চলছিল নতুন জীবনের প্রস্তুতি। কিন্তু নির্মম হত্যাকাণ্ডে বিয়ের আগেই থেমে গেল রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী (প্রার্থী) চক্রবর্তীর জীবন।

আগামী চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তাঁর হবু স্বামী অদিত করের একটি আবেগঘন পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্টে আগামী ও অদিতের একটি ছবিসহ হৃদয়বিদারক বার্তা তুলে ধরা হয়।

পোস্টে অদিত কর লেখেন, তাঁর জীবনের শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়ে গেল। তিনি জানান, ছবিটি বুধবারের—সেদিন আগামীর অনুরোধেই তাঁরা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ছবি তোলেন। আবেগঘন ওই পোস্টে অদিত লেখেন, “চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকব।”

দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল পুরোদমে। কিন্তু নতুন জীবনে পা রাখার আগেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আগামী ও তাঁর পরিবারের সেই স্বপ্ন চিরতরে থেমে যায়।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ কমিশনারের দাবি অনুযায়ী, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়, এরপর একে একে হত্যা করা হয় তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে।