
বিয়ের তারিখ আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। দুই পরিবারে চলছিল নতুন জীবনের প্রস্তুতি। কিন্তু নির্মম হত্যাকাণ্ডে বিয়ের আগেই থেমে গেল রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী (প্রার্থী) চক্রবর্তীর জীবন।
আগামী চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তাঁর হবু স্বামী অদিত করের একটি আবেগঘন পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্টে আগামী ও অদিতের একটি ছবিসহ হৃদয়বিদারক বার্তা তুলে ধরা হয়।
পোস্টে অদিত কর লেখেন, তাঁর জীবনের শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়ে গেল। তিনি জানান, ছবিটি বুধবারের—সেদিন আগামীর অনুরোধেই তাঁরা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ছবি তোলেন। আবেগঘন ওই পোস্টে অদিত লেখেন, “চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকব।”
দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল পুরোদমে। কিন্তু নতুন জীবনে পা রাখার আগেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আগামী ও তাঁর পরিবারের সেই স্বপ্ন চিরতরে থেমে যায়।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ কমিশনারের দাবি অনুযায়ী, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়, এরপর একে একে হত্যা করা হয় তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে।
অধিকার ডেস্কঃ 

























