
রাজশাহীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মির্জা মুজাহিদুল ইসলাম গাজী (২৮) নামের ওই তরুণ বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার শেখপাড়া এলাকার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণ, রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান ও শাহরিয়ার মনন এবং বহরামপুর এলাকার জুনাইরা ইসলাম।
মুজাহিদুল পুঠিয়ার কান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রেপ্তার আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে আসেন মুজাহিদুল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানা এলাকার স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে একটি বিসিএস কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে।
এ নিয়ে সেখানে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এক নারী সেখানে এসে বিষয়টি সমাধানের কথা বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী মুজাহিদুলকে তিন ব্যক্তির সঙ্গে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
এজাহারে মুজাহিদুল অভিযোগ করেন, ফ্ল্যাটে নেওয়ার পর তাঁর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে আবারও মারধর করা হয় এবং ওই নারীর সঙ্গে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে বড় বোনের নম্বরে কল করা হয়। এ সময় তাঁর বোনের স্বামী শাহরিয়ার মননের পূবালী ব্যাংকের একটি হিসাবে ৩০ হাজার টাকা পাঠান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মুজাহিদের কাছে থাকা আরও ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৪০ হাজার টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে একটি ডায়েরিতে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, যে ফ্ল্যাটে ঘটনাটি ঘটেছে সেটির মালিক রাজশাহী নগরের হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী খন্দকার হাসান কবির। গ্রেপ্তার তৌকির জাহানের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই সম্পর্কের সূত্রে তৌকির হোটেল ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
তবে হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের মালিক খন্দকার হাসান কবির দাবি করেছেন, ফ্ল্যাটটি তাঁরই মালিকানাধীন এবং তিনি ও তাঁর বড় ছেলে মাঝে মাঝে সেখানে থাকেন। হোটেল ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, একটি ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটটি খোলা হয়েছিল।
এদিকে গ্রেপ্তার আবু রায়হানের বাবা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বন্ধুরা সমস্যায় পড়ায় তাঁকে সেখানে ডেকেছিল এবং তাদের উদ্ধারের জন্যই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
শনিবার রাতে বোয়ালিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমা মুস্তারী বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 





















