
লেখক: আরফানুল ইসলাম রিফাত
স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
কিছু শহর শুধু মানচিত্রের একটি নির্দিষ্ট জায়গা নয়; কিছু শহর মানুষের জীবনের গল্প হয়ে ওঠে। সেখানে কাটানো সময়, পরিচিত মুখ, চেনা রাস্তা আর প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্ত একসময় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়। তখন সেই শহর ছেড়ে চলে যাওয়া মানে কেবল একটি জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাড়ি জমানো নয়, বরং জীবনের একটি সুন্দর অধ্যায়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
আমার জীবনে কুষ্টিয়া ঠিক তেমনই একটি শহর। যে শহরে একদিন এসেছিলাম উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে, আজ সেই শহর ছেড়ে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছে, এখানে শুধু কয়েকটি বছর কাটাইনি; রেখে যাচ্ছি অসংখ্য গল্প, অগণিত স্মৃতি আর হৃদয়ের এক টুকরো ভালোবাসা।
আজ কুষ্টিয়া থেকে সবকিছু গুছিয়ে বিদায় নিচ্ছি। শেষ হতে চলেছে দীর্ঘদিনের পরিচিত ক্যাম্পাসজীবন। শেষ হচ্ছে প্রতিদিনের চেনা পথচলা, ক্লাসের ব্যস্ততা, পরীক্ষার চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত।
অথচ এই শহরে প্রথম আসার দিনটির কথা ভাবলে আজও অবাক লাগে। একসময় যে শহর ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত, সেই শহর কখন যে এত আপন হয়ে উঠল, তা বুঝতেই পারিনি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, নতুন বিভাগ, নতুন সহপাঠী আর অচেনা পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে শুরু হয়েছিল জীবনের নতুন এক অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে অচেনা পথগুলো হয়ে উঠেছিল পরিচিত, আর অপরিচিত মুখগুলোর অনেকেই হয়ে উঠেছিলেন জীবনের কাছের মানুষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের খোলা প্রাঙ্গণ, চায়ের দোকান থেকে আড্ডার পরিচিত জায়গা—সবখানেই একটু একটু করে জমা হয়েছে স্মৃতি।
ডিগ্রির চেয়েও বড় প্রাপ্তি বন্ধুত্ব
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো শুধু একটি ডিগ্রি নয়, বরং এমন কিছু মানুষ, যাদের সঙ্গে পরিচয় না হলে জীবনের অনেক গল্পই অসম্পূর্ণ থেকে যেত।
আমার প্রিয় ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সিনিয়র, জুনিয়র ও সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো তাই বিশেষভাবে মনে থাকবে। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা, পরীক্ষার আগে দুশ্চিন্তা, ল্যাবের ব্যস্ততা, অ্যাসাইনমেন্টের চাপ, একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করা—সবকিছুই আজ অমূল্য স্মৃতি।
কত দিন একসঙ্গে বসে হেসেছি, কত দিন সামান্য বিষয় নিয়ে তর্ক করেছি, কখনো অভিমান হয়েছে, আবার মুহূর্তেই সব ভুলে আগের মতো হয়ে গেছি। কিছু মানুষের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হতো। কখনো আলাদা করে ভাবিনি, একদিন হয়তো তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে। আজ বুঝতে পারছি, প্রতিদিনের সেই সাধারণ মুহূর্তগুলোই ছিল জীবনের অসাধারণ প্রাপ্তি।
এই স্মৃতির কথা বলতে গেলে কয়েকজন বন্ধুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়—সোহান, মাসুদ, শামীম, ইউসুফ ও মিনহাজ। তারা আমার কাছে শুধু বন্ধু নয়, বরং ক্যাম্পাসজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের পাশে না পেলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গল্পটা কখনোই পূর্ণতা পেত না।
দিন-রাতের দীর্ঘ আড্ডা, প্রাণখোলা হাসি-ঠাট্টা, খেলাধুলা, একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর জীবনের নানা বিষয় নিয়ে অন্তহীন আলোচনা—সবকিছুতেই ছিল তাদের উপস্থিতি। কখনো সময়ের হিসাব না রেখে আড্ডায় মেতেছি, কখনো একসঙ্গে হেসেছি, আবার কখনো একজনের বিপদে অন্যজন পাশে দাঁড়িয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও এই বন্ধুত্বগুলো আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে আনন্দময় করে তুলেছিল।
শুধু আড্ডা কিংবা খেলাধুলা নয়, বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করার অনেক স্মৃতি রয়েছে। পড়াশোনার চাপ সামলে পরিকল্পনা করা, কাজ ভাগ করে নেওয়া এবং কোনো আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে। কখনো কাজের ব্যস্ততা, কখনো ছোটখাটো মতবিরোধ, আবার কখনো আয়োজন সফল হওয়ার আনন্দ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে স্মরণীয় কিছু অধ্যায়।
হয়তো ভবিষ্যতে আমরা সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। জীবনের প্রয়োজনে ছড়িয়ে পড়ব বিভিন্ন শহরে কিংবা দেশে। কিন্তু এই দিনগুলো, এই মানুষগুলো আর একসঙ্গে গড়ে তোলা স্মৃতিগুলো কখনোই অতীতের সাধারণ ঘটনা হয়ে থাকবে না; বরং জীবনের সুন্দরতম অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।
কক্সবাজার জেলা কল্যাণ সমিতি: ক্যাম্পাসের আরেকটি পরিবার
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিভাগের বাইরেও কিছু মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছে আত্মিক সম্পর্ক। কক্সবাজার জেলা কল্যাণ সমিতির মানুষগুলো আমার কাছে তেমনই একটি আপন পরিবার।
এই সংগঠনের বড় ভাই, ছোট ভাই ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। কখনো একসঙ্গে কোনো আয়োজনে অংশ নেওয়া, কখনো প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো, আবার কখনো নিছক আড্ডায় সময় কাটানো—এসবের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে আন্তরিকতার এক অদৃশ্য বন্ধন।
নিজের জেলার মানুষের সঙ্গে দূর শহরে পরিচিত হওয়া, তাদের সঙ্গে আপনজনের মতো মিশে যাওয়া এবং সুখ-দুঃখের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে একধরনের আলাদা প্রশান্তি রয়েছে। বাড়ি থেকে দূরে থেকেও তাদের সান্নিধ্যে অনেক সময় নিজের এলাকার মানুষের কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পেয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল পরিসরে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, কিন্তু সবাই হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন না। কিছু মানুষ কোনো স্বার্থ ছাড়াই আপন হয়ে ওঠেন। কক্সবাজার জেলা কল্যাণ সমিতির সেই মানুষগুলোকে তাই শুধু একটি সংগঠনের পরিচয়ে মনে রাখতে চাই না; তারা আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সুন্দর স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন।
একইভাবে ক্যাম্পাসের অসংখ্য পরিচিত মুখ, বড় ভাই, ছোট ভাই, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কত শত গল্প। তাদের কারও সঙ্গে হয়তো আর নিয়মিত দেখা হবে না, কারও সঙ্গে যোগাযোগও কমে যাবে। কিন্তু একসঙ্গে কাটানো সময়গুলো মনের গভীরে অমলিন হয়ে থাকবে।
যে ক্যাম্পাস স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে
একটি ক্যাম্পাস কেবল কয়েকটি একাডেমিক ভবন, রাস্তা কিংবা খোলা মাঠের সমষ্টি নয়। একজন শিক্ষার্থীর কাছে ক্যাম্পাস মানে তার বেড়ে ওঠার গল্প, স্বপ্ন দেখার জায়গা এবং জীবনের অসংখ্য অনুভূতির আশ্রয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসও আমার কাছে ঠিক তেমনই। এই ক্যাম্পাসের কত জায়গায় কত স্মৃতি ছড়িয়ে আছে, তার হিসাব হয়তো কখনো করা সম্ভব নয়। কোথাও বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডা, কোথাও একা বসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা; কোথাও আনন্দে মেতে ওঠা, আবার কোথাও মন খারাপের দিনগুলো নীরবে পার করা।
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কত পরিকল্পনা করেছি, কত স্বপ্ন দেখেছি! কত গল্পের শুরু হয়েছে, কত গল্প আবার অসমাপ্ত থেকে গেছে!
ক্যাম্পাসের পরিচিত রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে কখনো মনে হয়নি, একদিন এই পথগুলোও স্মৃতি হয়ে যাবে। আজ মনে হচ্ছে, এই রাস্তার প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি পরিচিত জায়গা যেন আমার জীবনের কোনো না কোনো গল্পের সাক্ষী।
হয়তো আগামীকালও ক্যাম্পাস ঠিক আগের মতোই থাকবে। ক্লাস চলবে, শিক্ষার্থীরা আসবে, আড্ডা জমবে, নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হবে। নতুন শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন নিয়ে এই ক্যাম্পাসে আসবে, নতুন গল্প তৈরি হবে, নতুন স্মৃতিতে ভরে উঠবে পরিচিত প্রাঙ্গণ। শুধু সেই চেনা দৃশ্যগুলোর মধ্যে আমার নিয়মিত উপস্থিতি আর থাকবে না।
সময় ও জীবনের নিয়মে একদিন আমিও হয়ে যাব এই ক্যাম্পাসের সাবেক একজন শিক্ষার্থী, যার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো ফিরে দেখার মতো এক অমূল্য অধ্যায়।
কষ্ট, অভিমান আর নিজেকে নতুন করে চেনা
কুষ্টিয়ায় কাটানো সময় শুধু আনন্দের ছিল না। এখানে যেমন অনেক সুন্দর মুহূর্ত পেয়েছি, তেমনি পেয়েছি কষ্ট, অভিমান, হতাশা আর জীবনের কঠিন কিছু অভিজ্ঞতা।
কিছু মানুষকে খুব আপন ভেবেছি, কেউ কেউ সত্যিই আপন হয়ে পাশে থেকেছেন। আবার কিছু অভিজ্ঞতা শিখিয়েছে, জীবনের সব সম্পর্ক একই রকম হয় না। কিছু সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়, কিছু সম্পর্ক দূরত্বের কারণে বদলে যায়, আর কিছু সম্পর্ক রেখে যায় নীরব শিক্ষা।
তবে জীবনের এই অভিজ্ঞতাগুলোও আমার কাছে মূল্যবান। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু আনন্দের স্মৃতি তৈরি করে না; মানুষকে চিনতে শেখায়, বাস্তবতা বুঝতে শেখায়, নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে এবং জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুত করে।
এই শহর আমাকে শুধু শিক্ষার সুযোগ দেয়নি; দিয়েছে নিজেকে নতুনভাবে চেনার অভিজ্ঞতা। বাড়ি থেকে দূরে থাকা, নিজের কাজ নিজে সামলানো, প্রতিকূলতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা—সবকিছুই আমাকে আগের চেয়ে পরিণত করেছে।
কখনো মনে হয়েছে পথটা কঠিন, কখনো অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছে, আবার কখনো ছোট্ট কোনো সাফল্য নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, এই শহরের প্রতিটি দিন ও অভিজ্ঞতা আমার ব্যক্তিত্ব গঠনে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছে।
তাই কুষ্টিয়াকে বিদায় জানানো মানে শুধু একটি শহর ছেড়ে যাওয়া নয়; বরং সেই শহরের কাছে শেখা অসংখ্য পাঠকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের নতুন পথে যাত্রা শুরু করা।
কৃতজ্ঞতা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা সবসময় থাকবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়েছে, জ্ঞান অর্জনের পরিবেশ দিয়েছে এবং এমন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, যাদের সান্নিধ্য আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।
শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, সহপাঠীদের সহযোগিতা, সিনিয়রদের স্নেহ এবং জুনিয়রদের ভালোবাসা—সবকিছু মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন হয়ে উঠেছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার বাইরেও যে জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, এই ক্যাম্পাস আমাকে তা বুঝিয়েছে।
এখানকার স্মৃতি, শিক্ষা ও সম্পর্ক ভবিষ্যতের পথচলায় আমার সঙ্গে থাকবে। জীবনের পরবর্তী সময়ে যত দূরেই যাই না কেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দিনগুলোর কথা মনে পড়বে বারবার।
নতুন পথে যাত্রা, স্মৃতিরা থাকবে সঙ্গে
আজ বিদায়ের মুহূর্তে মনে হচ্ছে, জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হয়ে আরেকটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দায়িত্ব, নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন স্বপ্ন এবং অজানা অনেক পথ।
হয়তো জীবনের ব্যস্ততায় প্রতিদিনের স্মৃতিগুলো মনে করার সুযোগ হবে না, হয়তো প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও সম্ভব হবে না। তবু বিশ্বাস করি, সময় ও দূরত্বের ব্যবধান যতই বাড়ুক, আন্তরিক সম্পর্কের মূল্য কখনো কমে যায় না।
কোনো এক অলস বিকেলে, কোনো পরিচিত গানের সুরে কিংবা হঠাৎ পুরোনো কোনো ছবি চোখে পড়লে আবার ফিরে আসবে ক্যাম্পাসের দিনগুলো। মনে পড়বে বন্ধুদের সঙ্গে রাতভর আড্ডা, বিভাগের অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যস্ততা, চায়ের কাপ হাতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা আর কুষ্টিয়ার পরিচিত পথ ধরে হেঁটে বেড়ানোর দিনগুলো।
হয়তো একদিন অনেক বছর পর আবার এই শহরে ফিরে আসব। হয়তো ক্যাম্পাসের পরিচিত রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজব পুরোনো দিনগুলোর ছায়া। কিছু জায়গা বদলে যাবে, কিছু মুখ আর দেখা যাবে না, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই নতুন রূপ নেবে। তবু মনের ভেতর থেকে যাবে সেই পুরোনো অনুভূতি—এই শহরেই তো জীবনের কত সুন্দর সময় কাটিয়েছি! এই শহরেই তো কিছু মানুষকে আপন করে পেয়েছি! এই শহরেই তো স্বপ্ন দেখতে শিখেছি, জীবনের বাস্তবতা বুঝেছি এবং নিজেকে গড়ে তোলার পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছি।
কুষ্টিয়া, তোমাকে বিদায় জানানো সহজ নয়। কারণ, তুমি আমার কাছে কেবল একটি শহর নও; তুমি আমার শিক্ষাজীবনের স্মৃতি, বন্ধুত্বের গল্প, আনন্দ-বেদনার সাক্ষী এবং বেড়ে ওঠার এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
তোমার বুকে কাটানো দিনগুলো হয়তো আর ফিরে পাব না, কিন্তু সেই দিনগুলোর স্মৃতি সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে। তোমার চেনা পথ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় প্রাঙ্গণ, বন্ধুদের হাসিমুখ আর অসংখ্য ছোট ছোট মুহূর্ত বারবার মনে করিয়ে দেবে জীবনের সেই সময়কে, যখন স্বপ্ন ছিল অনেক, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত, আর প্রতিটি দিনই ছিল নতুন কিছু শেখার সুযোগ।
আজ তাই বিদায় বলছি, কিন্তু ভুলে যাওয়ার জন্য নয়; বরং হৃদয়ের গভীরে যত্ন করে স্মৃতিগুলো রেখে দেওয়ার জন্য। জীবনের প্রয়োজনে চলে যাচ্ছি, কিন্তু এই শহরের প্রতি ভালোবাসা সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাব নতুন গন্তব্যের পথে।
বিদায় কুষ্টিয়া। বিদায়, প্রিয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। তুমি আমার জীবনের এমন এক অধ্যায়, যার পাতা বন্ধ হয়ে গেলেও গল্প কখনো শেষ হবে না।
ইবি প্রতিনিধি 




















