ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহে ধান-চাল সংগ্রহে বড় লক্ষ্য-৭০ হাজার টন ধান

মঙ্গলবার (৫ মে) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম।

চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ধান ও চাল সংগ্রহে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ মৌসুমে মোট ৭০ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন ধান এবং ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব থেকে কৃষকদের সুরক্ষা দিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। হাওরাঞ্চলে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে ৩ মে থেকে এবং অন্যান্য এলাকায় তা শুরু হবে ১৫ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ধান ও গম সংগ্রহও শুরু হয়েছে ৩ মে থেকেই।

সরকার নির্ধারিত দরে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং গম ৩৬ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। চলতি মৌসুমে বিভাগের ৩৩টি উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। অন্যদিকে ‘ডিজিটাল চালকল ব্যবস্থাপনা’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত উপজেলাগুলোতে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হলো—ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলপুর, নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, মদন, জামালপুর সদর, শেরপুর সদর ও ঝিনাইগাতী।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী জিয়াউল বাসেত বলেন, ধান উৎপাদনে সারাদেশে ময়মনসিংহের অবস্থান শীর্ষে। তাই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

এছাড়া কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে তারা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা হয়রানির শিকার না হন।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকদের সুরক্ষা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বোরো মৌসুমের সংগ্রহ কার্যক্রম সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহে ধান-চাল সংগ্রহে বড় লক্ষ্য-৭০ হাজার টন ধান

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ধান ও চাল সংগ্রহে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ মৌসুমে মোট ৭০ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন ধান এবং ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব থেকে কৃষকদের সুরক্ষা দিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। হাওরাঞ্চলে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে ৩ মে থেকে এবং অন্যান্য এলাকায় তা শুরু হবে ১৫ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ধান ও গম সংগ্রহও শুরু হয়েছে ৩ মে থেকেই।

সরকার নির্ধারিত দরে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং গম ৩৬ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। চলতি মৌসুমে বিভাগের ৩৩টি উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। অন্যদিকে ‘ডিজিটাল চালকল ব্যবস্থাপনা’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত উপজেলাগুলোতে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হলো—ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলপুর, নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, মদন, জামালপুর সদর, শেরপুর সদর ও ঝিনাইগাতী।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী জিয়াউল বাসেত বলেন, ধান উৎপাদনে সারাদেশে ময়মনসিংহের অবস্থান শীর্ষে। তাই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

এছাড়া কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে তারা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা হয়রানির শিকার না হন।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকদের সুরক্ষা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বোরো মৌসুমের সংগ্রহ কার্যক্রম সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।