ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
পুকুরে গোসল করতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু সেই চিকিৎসক কে প্রশাসনিক বদলি- মনপুরা গেলেন ডা. ইনজামাম ভোলাহাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ পালিত নাচোলে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীভাঙন রোধে পাড় সংস্কার কাজের উদ্বোধন গ্রামীণফোনের ৫% বিলম্বিত পাওনা পরিশোধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’—স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্য নবজাতকের লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা, আহত- ৩ জুয়া প্রতিরোধ আইনে সারাদেশের প্রথম মামলা চুয়াডাঙ্গায় মিরপুরে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ১১ দিন পর মৃত্যু

‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’—স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্য

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যেখানে সাংবাদিককে ‘স্যার’ সম্বোধনের দাবি তোলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় তথ্য সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ সম্বোধন করার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনের সময় একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম আরিফের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। কাজের প্রয়োজনে তথ্য ও বক্তব্য নিতে ওই সাংবাদিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাকে দাপ্তরিক শিষ্টাচার তথা ‘অফিস ডেকোরাম’ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, ওই কর্মকর্তা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদমর্যাদা একই স্তরের। তাই ইউএনওকে যেভাবে সম্মানসূচক সম্বোধন করা হয়, একইভাবে তাকেও সম্বোধন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সামিউল ইসলাম আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে কাউকে সম্মান জানানো এক বিষয়, কিন্তু তথ্য দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধন দাবি করা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাকিমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলনও। তার মতে, সরকারি কর্মকর্তাকে সম্মান দেখানো দায়িত্বের অংশ হলেও কোনো নির্দিষ্ট সম্বোধন জোরপূর্বক আরোপ করা সমীচীন নয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ ডাকার বাধ্যবাধকতা সরকারিভাবে নেই। কাকে কীভাবে সম্বোধন করা হবে, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রুচির বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুকুরে গোসল করতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু

‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’—স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৪৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় তথ্য সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ সম্বোধন করার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনের সময় একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম আরিফের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। কাজের প্রয়োজনে তথ্য ও বক্তব্য নিতে ওই সাংবাদিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাকে দাপ্তরিক শিষ্টাচার তথা ‘অফিস ডেকোরাম’ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, ওই কর্মকর্তা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদমর্যাদা একই স্তরের। তাই ইউএনওকে যেভাবে সম্মানসূচক সম্বোধন করা হয়, একইভাবে তাকেও সম্বোধন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সামিউল ইসলাম আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে কাউকে সম্মান জানানো এক বিষয়, কিন্তু তথ্য দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধন দাবি করা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাকিমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলনও। তার মতে, সরকারি কর্মকর্তাকে সম্মান দেখানো দায়িত্বের অংশ হলেও কোনো নির্দিষ্ট সম্বোধন জোরপূর্বক আরোপ করা সমীচীন নয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ ডাকার বাধ্যবাধকতা সরকারিভাবে নেই। কাকে কীভাবে সম্বোধন করা হবে, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রুচির বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।