
প্রয়াত কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, সিরাজুল ইসলামের রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ। গণতন্ত্রের প্রতি তার গভীর অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক চিন্তার স্বচ্ছতা তাকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।
শনিবার ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বার্ষিক বাংলাদেশ এমপাওয়ার্ড কনফারেন্সে প্রয়াত রাষ্ট্রদূতের নির্বাচিত লেখার সংকলন ‘রিক্লেইমিং বাংলাদেশ: ডেমোক্রেসি, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড নেশন বিল্ডিং’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একই আবাসিক হলে থেকেছেন।
তিনি বলেন, সিরাজুল ইসলাম ছিলেন গভীর দেশপ্রেমে বিশ্বাসী একজন মানুষ। নিজের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় চিন্তা প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি কখনো ভয় বা দ্বিধার আশ্রয় নেননি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সিরাজুল ইসলামের লেখায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তার লেখাগুলো ছিল তীক্ষ্ণ, স্পষ্ট এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতি গভীর পর্যবেক্ষণনির্ভর।
দেশের একটি কঠিন রাজনৈতিক সময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সে সময় তিনি নিজেসহ দেশের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা কারাগারে ছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে সিরাজুল ইসলাম বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের বিষয় আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন সেই সময়ে সিরাজুল ইসলাম দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
প্রকাশিত ‘রিক্লেইমিং বাংলাদেশ’ বইটিতে এম সিরাজুল ইসলামের গণতন্ত্র, সুশাসন, রাষ্ট্র নির্মাণ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় লেখা নির্বাচিত নিবন্ধ ও চিন্তাধারা সংকলিত হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক বিকাশ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন—এমন গবেষক ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বইটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও গবেষকদের জন্য সিরাজুল ইসলামের রাষ্ট্রচিন্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক লেখাগুলো মূল্যবান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান এবং একটি বিশেষ একাডেমিক প্যানেল আলোচনারও আয়োজন করা হয়।
‘বাংলাদেশ এমপাওয়ার্ড, ইনক’ ও ‘দ্য ঢাকা ফোরাম’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলামের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রচিন্তা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান নিয়ে তার লেখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অধিকার ডেস্কঃ 
























