ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট, অর্ধেকে নেমেছে উৎপাদন ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সামনে কঠিন রেকর্ড, ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন বাংলাদেশের হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৭৯৮ কালিয়াকৈরে বাস-গরুবাহী ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ বড়লেখায় বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার সরকারি কাজে বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ নতুন চার সদস্য লা লিগা শুরু আজ, শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বার্সা-রিয়াল উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা লুট: ডিবির জালে ৫ জন, উদ্ধার ১২ লাখ টাকা খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে হাবিপ্রবিতে দোয়া মাহফিল

উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা লুট: ডিবির জালে ৫ জন, উদ্ধার ১২ লাখ টাকা

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৯ Time View

উত্তরায় ডিএল পেট্রোল পাম্পের টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য জানায় ডিবি।

রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীদের কাছ থেকে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ ও পেশাদার লুটকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।

শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বরের প্লেট এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

একাধিক ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য

ডিবির কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের একটি অংশ রাজধানীতে বড় অঙ্কের অর্থ এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার সময় লুটের আরও কয়েকটি ঘটনায় জড়িত ছিল।

গত ৯ জুলাই সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের অর্থ লুটের ঘটনা ঘটে। পাম্পটির মালিক তাসীন আক্তার হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন প্রয়াত খুরশীদ জাহান হকের ছেলে।

ঘটনার পর পাম্পের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, পাম্পের তিন কর্মী একটি কভার্ড ভ্যানে করে টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের একটি ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তাদের পথরোধ করে। পরে টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে তারা আব্দুল্লাহপুরের দিকে চলে যায়।

যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঢাকার মাতুয়াইল এলাকা থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু এবং পোস্তগোলা এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাগরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় লুট হওয়া আরও ৯ লাখ টাকা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাগরের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি বলছে, সাগর এর আগেও ঢাকায় একই ধরনের কয়েকটি ঘটনায় জড়িত ছিল। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ পরিবহনের সময় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে অর্থ লুটের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও কয়েকজন জড়িত, মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক

ডিবি প্রধান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে এ ঘটনায় আটজনকে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ঘটনায় আরও ৬ থেকে ৭ জনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

তিনি জানান, লুটের অর্থ পরে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। যারা মূল ভূমিকা পালন করেছে, তারা তুলনামূলক বেশি অংশ পেয়েছে এবং সহযোগীদের ভূমিকা অনুযায়ী অর্থ ভাগ করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ঘটনায় অংশ নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

তদন্তের স্বার্থে মূল পরিকল্পনাকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ডিএল পেট্রোল পাম্পের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট, অর্ধেকে নেমেছে উৎপাদন

উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা লুট: ডিবির জালে ৫ জন, উদ্ধার ১২ লাখ টাকা

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীদের কাছ থেকে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ ও পেশাদার লুটকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।

শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বরের প্লেট এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

একাধিক ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য

ডিবির কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের একটি অংশ রাজধানীতে বড় অঙ্কের অর্থ এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার সময় লুটের আরও কয়েকটি ঘটনায় জড়িত ছিল।

গত ৯ জুলাই সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের অর্থ লুটের ঘটনা ঘটে। পাম্পটির মালিক তাসীন আক্তার হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন প্রয়াত খুরশীদ জাহান হকের ছেলে।

ঘটনার পর পাম্পের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, পাম্পের তিন কর্মী একটি কভার্ড ভ্যানে করে টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের একটি ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তাদের পথরোধ করে। পরে টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে তারা আব্দুল্লাহপুরের দিকে চলে যায়।

যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঢাকার মাতুয়াইল এলাকা থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু এবং পোস্তগোলা এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাগরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় লুট হওয়া আরও ৯ লাখ টাকা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাগরের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি বলছে, সাগর এর আগেও ঢাকায় একই ধরনের কয়েকটি ঘটনায় জড়িত ছিল। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ পরিবহনের সময় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে অর্থ লুটের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও কয়েকজন জড়িত, মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক

ডিবি প্রধান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে এ ঘটনায় আটজনকে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ঘটনায় আরও ৬ থেকে ৭ জনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

তিনি জানান, লুটের অর্থ পরে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। যারা মূল ভূমিকা পালন করেছে, তারা তুলনামূলক বেশি অংশ পেয়েছে এবং সহযোগীদের ভূমিকা অনুযায়ী অর্থ ভাগ করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ঘটনায় অংশ নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

তদন্তের স্বার্থে মূল পরিকল্পনাকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ডিএল পেট্রোল পাম্পের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।