ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মিরপুরে বিদেশি পিস্তল-রিভলবার ও গুলিসহ ‘শুটার জাকির’ গ্রেপ্তার রিমার্কের পথ ধরে কসমেটিকস রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন শামা ওবায়েদ অসুস্থতায় মিডটার্মে অনুপস্থিত হলে জরিমানা, ক্ষুব্ধ বেরোবির শিক্ষার্থীরা ক্যান্সার আক্রান্ত যুবদল নেতার পাশে তারেক রহমান চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার রেলওয়ের তিন শীর্ষ পদে রদবদল ধামরাইয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সৎ বাবা গ্রেফতার ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলা: বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে বেরোবিতে মিড সেমিস্টার পরীক্ষা মিস করলে গুনতে হবে জরিমানা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রায়পুরে সড়ক উন্নয়নের নামে ভোগান্তি- থমকে আছে কাজ

রায়পুরে সড়ক উন্নয়নের নামে ভোগান্তি- থমকে আছে কাজ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা সড়কের চিত্র। ছবি-দৈনিক অধিকার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সড়ক নিয়ে জনদুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও খালের পাশে গাইড ওয়াল না থাকায় অতিবৃষ্টিতে সড়কের পাড় ধসে যাচ্ছে, আবার কোথাও নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় কাদা-পানিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও রয়েছে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের ভয়াবহ চিত্র, যার ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজে ধীরগতি, প্রয়োজনীয় গাইড ওয়ালের অভাব, সময়মতো সংস্কার না করা এবং সংশ্লিষ্টদের যথাযথ তদারকির ঘাটতিতেই এই সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রায়পুর শহরের থানামোড় শহীদ ওসমান চত্বর থেকে নর্দমা পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আওতায় না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

একই সঙ্গে পাটোয়ারী রাস্তার মাথা থেকে স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশেও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন, বিশেষত কাজী ফারুকী কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যাতায়াতের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গর্ত এড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের মিতালী বাজার-চর কাসিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার, যা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। সড়কের একপাশে খাল থাকলেও প্রয়োজনীয় গাইড ওয়াল না থাকায় অতিবৃষ্টি ও পানির স্রোতে রাস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে। কোথাও পিচের নিচের মাটি সরে গেছে, আবার কোথাও রাস্তার কিনারা খালের দিকে ধসে পড়েছে—ফলে সড়কটির বেশ কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ছাড়াই সড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পাড় ধসে যাচ্ছে। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে মাটি-বালু ফেলে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়।

মিতালী বাজার মডেল একাডেমির এক শিক্ষার্থী জানায়, এই সড়ক দিয়ে চলাচলে ভয় লাগে এবং বৃষ্টি হলে রাস্তার পাড় আরও বেশি ভেঙে যায়, তাই দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

রায়পুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং স্থানীয়রা লিখিত আবেদন করলে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাসিক সভায়ও বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে উপজেলার ১নং চর আবাবিল ইউনিয়নের ঝাউডগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে রাস্তার মাটি কেটে সামান্য বালু ফেলে রাখার পর কাজের আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রাস্তার মাঝখানে মাটি কাটা অবস্থায় থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশঙ্কা, এভাবে দীর্ঘদিন রাস্তা ফেলে রাখা হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জানান, বর্ষা মৌসুম চলায় বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তিনি জানান, ঠিকাদারকে পানি নিষ্কাশনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলজার ট্রেডার্সের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে সাড়া না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেবল নির্মাণাধীন সড়ক নয়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বাসাবাড়ি-হায়দারগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিরও অবস্থা নাজুক। চাঁদপুরের হাইমচর ও ফরিদগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের রায়পুরে যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া হায়দারগঞ্জ-চরভৈরবী, হায়দারগঞ্জ-হাজিমারা, মোল্লারহাট এবং ঝাউডগী-কেম্পেরহাট সড়কের বিভিন্ন অংশেও সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্ষায় গর্তে পানি জমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব সড়কে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো সড়ক সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই পুনরায় ভেঙে পড়ে। নিম্নমানের কাজ ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের অভিযোগও রয়েছে তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে ইট-বালু ফেলে সংস্কার নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো টেকসইভাবে মেরামত করতে হবে। খালের পাশে প্রয়োজনীয় গাইড ওয়াল নির্মাণ, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিতকরণ এবং চলমান প্রকল্প দ্রুত সমাপ্ত করতে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অতিবৃষ্টি ও বর্ষার পানিতে সড়কের আরও অংশ ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বিদেশি পিস্তল-রিভলবার ও গুলিসহ ‘শুটার জাকির’ গ্রেপ্তার

রায়পুরে সড়ক উন্নয়নের নামে ভোগান্তি- থমকে আছে কাজ

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৩১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সড়ক নিয়ে জনদুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও খালের পাশে গাইড ওয়াল না থাকায় অতিবৃষ্টিতে সড়কের পাড় ধসে যাচ্ছে, আবার কোথাও নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় কাদা-পানিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও রয়েছে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের ভয়াবহ চিত্র, যার ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজে ধীরগতি, প্রয়োজনীয় গাইড ওয়ালের অভাব, সময়মতো সংস্কার না করা এবং সংশ্লিষ্টদের যথাযথ তদারকির ঘাটতিতেই এই সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রায়পুর শহরের থানামোড় শহীদ ওসমান চত্বর থেকে নর্দমা পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আওতায় না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

একই সঙ্গে পাটোয়ারী রাস্তার মাথা থেকে স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশেও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন, বিশেষত কাজী ফারুকী কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যাতায়াতের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গর্ত এড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের মিতালী বাজার-চর কাসিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার, যা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। সড়কের একপাশে খাল থাকলেও প্রয়োজনীয় গাইড ওয়াল না থাকায় অতিবৃষ্টি ও পানির স্রোতে রাস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে। কোথাও পিচের নিচের মাটি সরে গেছে, আবার কোথাও রাস্তার কিনারা খালের দিকে ধসে পড়েছে—ফলে সড়কটির বেশ কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ছাড়াই সড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পাড় ধসে যাচ্ছে। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে মাটি-বালু ফেলে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়।

মিতালী বাজার মডেল একাডেমির এক শিক্ষার্থী জানায়, এই সড়ক দিয়ে চলাচলে ভয় লাগে এবং বৃষ্টি হলে রাস্তার পাড় আরও বেশি ভেঙে যায়, তাই দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

রায়পুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং স্থানীয়রা লিখিত আবেদন করলে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাসিক সভায়ও বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে উপজেলার ১নং চর আবাবিল ইউনিয়নের ঝাউডগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে রাস্তার মাটি কেটে সামান্য বালু ফেলে রাখার পর কাজের আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রাস্তার মাঝখানে মাটি কাটা অবস্থায় থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশঙ্কা, এভাবে দীর্ঘদিন রাস্তা ফেলে রাখা হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জানান, বর্ষা মৌসুম চলায় বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তিনি জানান, ঠিকাদারকে পানি নিষ্কাশনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলজার ট্রেডার্সের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে সাড়া না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেবল নির্মাণাধীন সড়ক নয়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বাসাবাড়ি-হায়দারগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিরও অবস্থা নাজুক। চাঁদপুরের হাইমচর ও ফরিদগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের রায়পুরে যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া হায়দারগঞ্জ-চরভৈরবী, হায়দারগঞ্জ-হাজিমারা, মোল্লারহাট এবং ঝাউডগী-কেম্পেরহাট সড়কের বিভিন্ন অংশেও সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্ষায় গর্তে পানি জমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব সড়কে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো সড়ক সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই পুনরায় ভেঙে পড়ে। নিম্নমানের কাজ ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের অভিযোগও রয়েছে তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে ইট-বালু ফেলে সংস্কার নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো টেকসইভাবে মেরামত করতে হবে। খালের পাশে প্রয়োজনীয় গাইড ওয়াল নির্মাণ, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিতকরণ এবং চলমান প্রকল্প দ্রুত সমাপ্ত করতে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অতিবৃষ্টি ও বর্ষার পানিতে সড়কের আরও অংশ ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।