
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের মৌসুম শুরু হওয়ায় সরকারি সার সংগ্রহে কৃষকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সার সরবরাহ ও বিক্রয়কেন্দ্রে কৃষকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন সার সংগ্রহের জন্য বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে কৃষকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির সহযোগিতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সার বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইউনিয়নভিত্তিক বিভিন্ন কেন্দ্রে সার বিতরণ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থেকে সার বিতরণ ও কৃষকদের সহযোগিতা করছেন।
কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। এ কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একসঙ্গে অনেক কৃষকের সার প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে সার বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হওয়ায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের চাহিদা পূরণে রৌমারীতে পর্যাপ্ত সার মজুদ ও সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। বিতরণে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা কিংবা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
সার নিতে আসা কৃষক সোহেল আহাম্মেদ, মজনু মিয়া ও মনির জামালসহ কয়েকজন জানান, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন। তবে একই সময়ে অনেক কৃষক সার নিতে আসায় কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, ‘রৌমারীতে কোনো ধরনের সার সংকট নেই। কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের মাধ্যমে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।’
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাউসার আলী বলেন, ‘সারের চাহিদা বেশি থাকায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত হচ্ছেন। এ কারণে ভিড় তৈরি হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা সার বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।’
সার্বিক বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুল হাসান বলেন, বর্তমানে আমন ধানের মৌসুম পুরোদমে চলছে। এ সময়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য সারের চাহিদা বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, দেশে কোনো সার সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা পূরণে সরকার আগেই পর্যাপ্ত সার মজুদের ব্যবস্থা করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, একই সময়ে বিপুলসংখ্যক কৃষক সার সংগ্রহ করতে আসায় বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় হচ্ছে। কৃষকরা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সার সংগ্রহ করতে পারেন, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, আমন মৌসুমে চাহিদার সময় সার সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ছাড়াই তারা প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারবেন।
অধিকার ডেস্কঃ 























