
কুমিল্লার মুরাদনগরে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে আনোয়ার হোসেন নামে এক সাবেক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের দাবি, তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি উত্তর পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোররাতে আনোয়ার হোসেন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে গ্রামে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
একপর্যায়ে গণপিটুনিতে আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সাবেক ইউপি সদস্য ফিরিজ মেম্বার অভিযোগ করেন, অতীতে আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ ড্রেজিং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গ্রামের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলেও দাবি করেন ফিরিজ মেম্বার।
তাঁর ভাষ্য, রোববার ভোরে আনোয়ার হোসেন দলবল নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে গ্রামে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাঁদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে গণপিটুনিতে আনোয়ার আহত হন।
তবে নিহতের চাচাতো ভাই জসিমের দাবি, ডাকাতির কোনো ঘটনা নয়, বরং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে মসজিদের মাইকে তাঁকে ডাকাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই আনোয়ার হোসেন গ্রামে প্রবেশ করেছিলেন। বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, ভোররাতে গ্রামে প্রবেশের পর স্থানীয়দের হামলায় আনোয়ার নিহত হন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিনিধি 





















