
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এমন ক্ষমতা ভোগ করবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারে—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। একই ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
টিআইবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের অজুহাতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
টিআইবির মতে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধের ক্ষেত্রে সুরক্ষা হিসেবে কাজ না করে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
বিএনপি-জামায়াতের প্রতি টিআইবির আহ্বান
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গসংগঠনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটি বলেছে, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেছে তারা।
‘হামলার শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলার শিকার গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির সুযোগ সংকুচিত করে। তাই আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানসহ পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব নিয়েও উদ্বেগ
রাবির সাম্প্রতিক ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং পেশিশক্তির প্রদর্শনের মতো বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবি এবং শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। তবে পদত্যাগের দাবি আদায়ে রাজনৈতিক প্রভাব, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে রাবিতে হামলার ঘটনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও জড়িতদের গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন
অধিকার ডেস্কঃ 






















