ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান কেন অবৈধ নয়-হাইকোর্টের রুল

ফাইল ছবি।

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) বা ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং দণ্ডের বিধান সংবলিত আইনগত ধারা কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (১ মার্চ) এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

আদালত একই সঙ্গে আমদানিকৃত ভ্যাপ, ভ্যাপিং ডিভাইস, ড্যাপার, ই-লিকুইড ও ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত বা জব্দ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক (কাস্টমস) বিভাগকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

আইনের প্রেক্ষাপট

২০০৫ সালের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এ সংশোধনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস নিষিদ্ধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ধারায় এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিপণন, পরিবহন, বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণায় জড়িত থাকলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের জন্যও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত বছর জারি হওয়া একটি অধ্যাদেশে একই বিধান বহাল রাখা হয়। পরে এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ‘ভেপার ক্লাউড লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উজ জামানসহ ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিপণনকারী ১৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

রিটকারীদের বক্তব্য

রিটকারীদের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, প্রচলিত সিগারেট ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাদের দাবি, ই-সিগারেট তুলনামূলক কম ক্ষতিকর এবং অনেকেই এটি সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। অথচ সংশ্লিষ্ট ধারায় ই-সিগারেট কার্যত নিষিদ্ধ করা হলেও প্রচলিত সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়নি, যা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের মতে, এ বিধান তামাকজাত পণ্যের ভোক্তা ও ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে আমদানি ও কর পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার পর হঠাৎ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেন তারা।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান কেন অবৈধ নয়-হাইকোর্টের রুল

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) বা ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং দণ্ডের বিধান সংবলিত আইনগত ধারা কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (১ মার্চ) এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

আদালত একই সঙ্গে আমদানিকৃত ভ্যাপ, ভ্যাপিং ডিভাইস, ড্যাপার, ই-লিকুইড ও ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত বা জব্দ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক (কাস্টমস) বিভাগকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

আইনের প্রেক্ষাপট

২০০৫ সালের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এ সংশোধনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস নিষিদ্ধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ধারায় এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিপণন, পরিবহন, বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণায় জড়িত থাকলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের জন্যও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত বছর জারি হওয়া একটি অধ্যাদেশে একই বিধান বহাল রাখা হয়। পরে এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ‘ভেপার ক্লাউড লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উজ জামানসহ ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিপণনকারী ১৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

রিটকারীদের বক্তব্য

রিটকারীদের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, প্রচলিত সিগারেট ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাদের দাবি, ই-সিগারেট তুলনামূলক কম ক্ষতিকর এবং অনেকেই এটি সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। অথচ সংশ্লিষ্ট ধারায় ই-সিগারেট কার্যত নিষিদ্ধ করা হলেও প্রচলিত সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়নি, যা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের মতে, এ বিধান তামাকজাত পণ্যের ভোক্তা ও ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে আমদানি ও কর পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার পর হঠাৎ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেন তারা।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।