ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান কেন অবৈধ নয়-হাইকোর্টের রুল

ফাইল ছবি।

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) বা ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং দণ্ডের বিধান সংবলিত আইনগত ধারা কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (১ মার্চ) এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

আদালত একই সঙ্গে আমদানিকৃত ভ্যাপ, ভ্যাপিং ডিভাইস, ড্যাপার, ই-লিকুইড ও ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত বা জব্দ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক (কাস্টমস) বিভাগকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

আইনের প্রেক্ষাপট

২০০৫ সালের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এ সংশোধনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস নিষিদ্ধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ধারায় এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিপণন, পরিবহন, বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণায় জড়িত থাকলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের জন্যও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত বছর জারি হওয়া একটি অধ্যাদেশে একই বিধান বহাল রাখা হয়। পরে এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ‘ভেপার ক্লাউড লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উজ জামানসহ ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিপণনকারী ১৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

রিটকারীদের বক্তব্য

রিটকারীদের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, প্রচলিত সিগারেট ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাদের দাবি, ই-সিগারেট তুলনামূলক কম ক্ষতিকর এবং অনেকেই এটি সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। অথচ সংশ্লিষ্ট ধারায় ই-সিগারেট কার্যত নিষিদ্ধ করা হলেও প্রচলিত সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়নি, যা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের মতে, এ বিধান তামাকজাত পণ্যের ভোক্তা ও ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে আমদানি ও কর পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার পর হঠাৎ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেন তারা।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান কেন অবৈধ নয়-হাইকোর্টের রুল

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) বা ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং দণ্ডের বিধান সংবলিত আইনগত ধারা কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (১ মার্চ) এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

আদালত একই সঙ্গে আমদানিকৃত ভ্যাপ, ভ্যাপিং ডিভাইস, ড্যাপার, ই-লিকুইড ও ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত বা জব্দ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক (কাস্টমস) বিভাগকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

আইনের প্রেক্ষাপট

২০০৫ সালের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এ সংশোধনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস নিষিদ্ধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ধারায় এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিপণন, পরিবহন, বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণায় জড়িত থাকলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের জন্যও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত বছর জারি হওয়া একটি অধ্যাদেশে একই বিধান বহাল রাখা হয়। পরে এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ‘ভেপার ক্লাউড লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উজ জামানসহ ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিপণনকারী ১৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

রিটকারীদের বক্তব্য

রিটকারীদের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, প্রচলিত সিগারেট ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাদের দাবি, ই-সিগারেট তুলনামূলক কম ক্ষতিকর এবং অনেকেই এটি সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। অথচ সংশ্লিষ্ট ধারায় ই-সিগারেট কার্যত নিষিদ্ধ করা হলেও প্রচলিত সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়নি, যা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের মতে, এ বিধান তামাকজাত পণ্যের ভোক্তা ও ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে আমদানি ও কর পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার পর হঠাৎ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেন তারা।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।