ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
খাদ্য অপচয় কমাতে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান পোশাকশ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান চট্টগ্রামে শ্রমিক হত্যা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মশাল মিছিল টেস্ট বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি তাইজুল ও মিরাজের ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণের সড়যন্ত্র, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন, ডিলারের দোকানে ক্ষোভ ও পুলিশ মোতায়েন ইবির পঞ্চম সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, নিবন্ধন শুরু ৫ নভেম্বর পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষে সফল বেরোবি শিক্ষার্থী আকরাম আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন চীনা নেতা লিউ হাইশিং
বেরোবি শিক্ষার্থীদের

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পৃথক টেকনিক্যাল ক্যাডারসহ ৬ দফা দাবিতে মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছেন বেরোবির দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের বিষয়ভিত্তিক কর্মসংস্থান, পেশাগত স্বীকৃতি ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদ গেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পেশাগত অধিকার ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত দাবিগুলো তুলে ধরে স্মারকলিপি দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভাগের দশম ব্যাচের মুশফিকুর রহমান মুগ্ধ ও একাদশ ব্যাচের তাহমিদ সিদ্দিক দাবিগুলো উপস্থাপন করেন। এ সময় বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে ছয়টি প্রধান দাবি তোলা হয়েছে:

১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের জন্য বিষয়ভিত্তিক সরকারি চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা।
২. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে পৃথক টেকনিক্যাল ক্যাডার বা উপযুক্ত কারিগরি পদ সৃষ্টি করা।
৩. সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়োগে এ বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪. স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ভূগোলের শিক্ষক নিয়োগে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ, দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা (ESDM) বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের যোগ্যতা নির্ধারণে নিয়োগবিধি সংশোধন করা।
৫. জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ইন্টার্নশিপ নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৬. দাবিগুলো পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরিতে মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর ও বিষয়বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি বা কমিশন গঠন করা।

মুশফিকুর রহমান মুগ্ধ বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়াদান ও পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখার মতো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করছেন। সেই অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক কর্মসংস্থান ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে তাঁদের অর্জিত দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন চান তাঁরা।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে দক্ষ জনবলের গুরুত্ব অনেক। এ বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র তৈরি হলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। এ জন্য পৃথক কারিগরি পদ সৃষ্টি, ইন্টার্নশিপের সুযোগ ও নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, দাবি বাস্তবায়িত হলে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের পেশাগত স্বীকৃতি ও যোগ্যতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খাদ্য অপচয় কমাতে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান

বেরোবি শিক্ষার্থীদের

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পৃথক টেকনিক্যাল ক্যাডারসহ ৬ দফা দাবিতে মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের বিষয়ভিত্তিক কর্মসংস্থান, পেশাগত স্বীকৃতি ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদ গেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পেশাগত অধিকার ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত দাবিগুলো তুলে ধরে স্মারকলিপি দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভাগের দশম ব্যাচের মুশফিকুর রহমান মুগ্ধ ও একাদশ ব্যাচের তাহমিদ সিদ্দিক দাবিগুলো উপস্থাপন করেন। এ সময় বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে ছয়টি প্রধান দাবি তোলা হয়েছে:

১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের জন্য বিষয়ভিত্তিক সরকারি চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা।
২. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে পৃথক টেকনিক্যাল ক্যাডার বা উপযুক্ত কারিগরি পদ সৃষ্টি করা।
৩. সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়োগে এ বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪. স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ভূগোলের শিক্ষক নিয়োগে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ, দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা (ESDM) বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের যোগ্যতা নির্ধারণে নিয়োগবিধি সংশোধন করা।
৫. জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ইন্টার্নশিপ নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৬. দাবিগুলো পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরিতে মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর ও বিষয়বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি বা কমিশন গঠন করা।

মুশফিকুর রহমান মুগ্ধ বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়াদান ও পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখার মতো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করছেন। সেই অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক কর্মসংস্থান ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে তাঁদের অর্জিত দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন চান তাঁরা।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে দক্ষ জনবলের গুরুত্ব অনেক। এ বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র তৈরি হলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। এ জন্য পৃথক কারিগরি পদ সৃষ্টি, ইন্টার্নশিপের সুযোগ ও নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, দাবি বাস্তবায়িত হলে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের পেশাগত স্বীকৃতি ও যোগ্যতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।