
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মুসকান আরা মিম (১৬) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মৃত মুসকান আরা মিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মসজিদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মাহবুব আলমের মেয়ে। জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহবুব হাসান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরও প্রায় সাতজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শাহাব উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বল্প সময়ে এতসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি। এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শুধু ব্যক্তিগত সতর্কতা নয়, বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতেও সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, বমি কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে পেটের তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত নিস্তেজভাব দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে কিশোরীর মৃত্যু এবং নতুন রোগী ভর্তির এ চিত্র রোগটি প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 






















