ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা টিম ৪ এর বিশেষ অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযানে পৌরসভার টিম-৪, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু মশা মারার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে বের করে ধ্বংস এবং নাগরিকদের সচেতন করার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুর মহালদারপাড়া, বোর্ডঘর ও বাবুপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে পৌরসভার টিম-৪।

বিকেলে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে বাড়ির আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা, জলাধারসহ আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখা হয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সরানোর পাশাপাশি বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়। অভিযানে রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরাও অংশ নেন।

বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত নজরদারির অভাব ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করা, জমা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

শুধু মশা মারলেই হবে না, বন্ধ করতে হবে প্রজননস্থল

মশক নিধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ দূর করা সমান জরুরি। ছাদ, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের সামান্য অংশে জমে থাকা পানিও এডিসের প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে অভিযানে শুধু দৃশ্যমান আবর্জনা পরিষ্কারে সীমাবদ্ধ না থেকে কোথায় পানি জমছে, কোথায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি আছে এবং কোথায় নিয়মিত নজরদারি দরকার, তা-ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। পৌরসভার প্রচারণায় ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’ বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাসিন্দাদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, বৃষ্টির পানি জমতে না দেওয়া এবং পানি ধরে রাখতে পারে এমন পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়।

জলাধারে জমে থাকা পানি অপসারণ

অভিযানের সময় কয়েকটি জলাধারে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। টিম-৪-এর সদস্যরা সেই পানি অপসারণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত জলাধার ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

অভিযানসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে লার্ভা না পাওয়া গেলেও সেখানে ভবিষ্যতে এডিসের প্রজননের ঝুঁকি নেই, এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই। পানি জমার পরিস্থিতি তৈরি হলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই শুধু নোংরা নালা বা আবর্জনার স্তূপ নয়, ঘরের ভেতর ও বাইরের ছোট ছোট পানির পাত্রও নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

আঙিনা থেকে ছাদ, নজরদারির বাইরে নয় কোনো স্থান

নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে অভিযানের সময় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র ও বাগান নিয়মিত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা এবং পানি জমতে পারে এমন সামগ্রী খোলা জায়গায় ফেলে না রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

কারণ, এডিসের প্রজননস্থল সব সময় বড় জলাশয় বা চোখে পড়ার মতো আবর্জনায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বাড়ির কোণে পড়ে থাকা একটি পাত্র বা ছাদে জমে থাকা সামান্য পানিও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ি ও আশপাশ ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমলে দ্রুত সরিয়ে ফেলা এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখা বা নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পৌরসভার টিম-৪-এর এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী। এ ছাড়া পৌরসভার অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ সংশ্লিষ্টরা ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসাঃ তানজিলা খাতুন, মোঃ এ্যানি খাতুন ও মোসাঃ খুসি আরা খাতুনসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা নয়

ডেঙ্গু সংক্রমণে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা জরুরি। নিজে থেকে ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবার জ্বর হলেই ডেঙ্গু ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

অভিযান একদিনের, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব প্রতিদিনের

এ কার্যক্রম আবারও দেখিয়ে দিল, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু কর্তৃপক্ষের অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রতিটি বাড়ি, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। বাসিন্দাদের প্রতিদিনের সতর্কতাই এ উদ্যোগের কার্যকারিতা ধরে রাখবে।

একই সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনমতো মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা দরকার। কোনো এলাকায় বারবার পানি জমলে তার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাও জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবহেলার সুযোগ নেই। বাড়ির আশপাশের জমা পানি সরানো, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মতো ছোট পদক্ষেপই সম্মিলিতভাবে বড় ঝুঁকি কমাতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা টিম ৪ এর বিশেষ অভিযান

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু মশা মারার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে বের করে ধ্বংস এবং নাগরিকদের সচেতন করার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুর মহালদারপাড়া, বোর্ডঘর ও বাবুপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে পৌরসভার টিম-৪।

বিকেলে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে বাড়ির আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা, জলাধারসহ আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখা হয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সরানোর পাশাপাশি বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়। অভিযানে রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরাও অংশ নেন।

বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত নজরদারির অভাব ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করা, জমা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

শুধু মশা মারলেই হবে না, বন্ধ করতে হবে প্রজননস্থল

মশক নিধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ দূর করা সমান জরুরি। ছাদ, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের সামান্য অংশে জমে থাকা পানিও এডিসের প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে অভিযানে শুধু দৃশ্যমান আবর্জনা পরিষ্কারে সীমাবদ্ধ না থেকে কোথায় পানি জমছে, কোথায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি আছে এবং কোথায় নিয়মিত নজরদারি দরকার, তা-ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। পৌরসভার প্রচারণায় ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’ বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাসিন্দাদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, বৃষ্টির পানি জমতে না দেওয়া এবং পানি ধরে রাখতে পারে এমন পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়।

জলাধারে জমে থাকা পানি অপসারণ

অভিযানের সময় কয়েকটি জলাধারে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। টিম-৪-এর সদস্যরা সেই পানি অপসারণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত জলাধার ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

অভিযানসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে লার্ভা না পাওয়া গেলেও সেখানে ভবিষ্যতে এডিসের প্রজননের ঝুঁকি নেই, এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই। পানি জমার পরিস্থিতি তৈরি হলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই শুধু নোংরা নালা বা আবর্জনার স্তূপ নয়, ঘরের ভেতর ও বাইরের ছোট ছোট পানির পাত্রও নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

আঙিনা থেকে ছাদ, নজরদারির বাইরে নয় কোনো স্থান

নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে অভিযানের সময় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র ও বাগান নিয়মিত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা এবং পানি জমতে পারে এমন সামগ্রী খোলা জায়গায় ফেলে না রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

কারণ, এডিসের প্রজননস্থল সব সময় বড় জলাশয় বা চোখে পড়ার মতো আবর্জনায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বাড়ির কোণে পড়ে থাকা একটি পাত্র বা ছাদে জমে থাকা সামান্য পানিও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ি ও আশপাশ ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমলে দ্রুত সরিয়ে ফেলা এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখা বা নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পৌরসভার টিম-৪-এর এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী। এ ছাড়া পৌরসভার অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ সংশ্লিষ্টরা ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসাঃ তানজিলা খাতুন, মোঃ এ্যানি খাতুন ও মোসাঃ খুসি আরা খাতুনসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা নয়

ডেঙ্গু সংক্রমণে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা জরুরি। নিজে থেকে ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবার জ্বর হলেই ডেঙ্গু ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

অভিযান একদিনের, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব প্রতিদিনের

এ কার্যক্রম আবারও দেখিয়ে দিল, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু কর্তৃপক্ষের অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রতিটি বাড়ি, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। বাসিন্দাদের প্রতিদিনের সতর্কতাই এ উদ্যোগের কার্যকারিতা ধরে রাখবে।

একই সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনমতো মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা দরকার। কোনো এলাকায় বারবার পানি জমলে তার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাও জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবহেলার সুযোগ নেই। বাড়ির আশপাশের জমা পানি সরানো, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মতো ছোট পদক্ষেপই সম্মিলিতভাবে বড় ঝুঁকি কমাতে পারে।