ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

শীতের অতিথিদের অপেক্ষায় নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ, চলছে আবাসস্থল প্রস্তুতি

নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়, শীতের অতিথি পাখির আগমনের আগে চলছে পরিষ্কারের কাজ।

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে দেশের জলাভূমিগুলোতে শুরু হয় পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা। উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে তুলনামূলক উষ্ণ পরিবেশের সন্ধানে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে নানা প্রজাতির এসব পাখি। তাদের কলতান, ডানার ঝাপটা আর জলাশয়ে অবাধ বিচরণে শীতের প্রকৃতি পায় নতুন প্রাণ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শীতের অতিথিদের আগমনের আগেই প্রস্তুত হচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ময়নাদ্বীপ। দ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়ে জন্মানো কচুরিপানা পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত শীত মৌসুমে অতিথি পাখির বিচরণে মুখর হয়ে উঠেছিল নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়। শীতের শুরুতে পাখিদের আগমন, জলাশয়ে তাদের আনাগোনা এবং দ্বীপের সবুজ-শ্যামল পরিবেশ ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যোগ করেছিল ভিন্ন মাত্রা। গ্রীষ্মের শুরুতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে জলাশয়জুড়ে ব্যাপকভাবে কচুরিপানা জন্মে। শীত মৌসুম সামনে রেখে এখন সেসব কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পাখিদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ময়নাদ্বীপকে পরিযায়ী পাখির জন্য আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে পাখিদের নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশও সমৃদ্ধ হবে।

পাখির কলতানে প্রাণ ফিরে পায় ক্যাম্পাস

প্রতিবছর শীত মৌসুমে নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়ে অতিথি পাখির আগমন ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করে এক ভিন্ন আবহ। পাখি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জলাশয়ের বুকে পাখির বিচরণ, দলবদ্ধভাবে উড়ে বেড়ানো এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

শুধু সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা নয়, ময়নাদ্বীপ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ব্যস্ত শিক্ষাজীবনের ফাঁকে এখানে সময় কাটানো, পাখি পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে পাখিদের উপস্থিতি ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে আগ্রহ তৈরি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম চক্রবর্তী বলেন, “শীতকালে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখির আগমন ঘটে, তার মধ্যে নোবিপ্রবি একটি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। অতিথি পাখির আগমন আমাদের ক্যাম্পাসকে অন্য রকম সৌন্দর্য দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই, পাখিরা নিরাপদে থাকুক এবং প্রতিবছর আরও বেশি পাখি এখানে আসুক।”

তার মতে, পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা গেলে ময়নাদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গঠিত কমিটি

ময়নাদ্বীপের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার থেকে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের লেকের সৌন্দর্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিযায়ী পাখির বিচরণের উপযোগী অভয়ারণ্য তৈরি ও রক্ষায় গবেষণাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিনা আলম এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান ও নিশাত ফারাবি।

কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ময়নাদ্বীপের সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি এর পরিবেশগত গুরুত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, জলাশয়ের পরিচর্যা এবং পাখিদের উপযোগী পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে এলাকাটিকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

কচুরিপানা পরিষ্কার, তৈরি হচ্ছে পাখির বসার স্থান

ময়নাদ্বীপ পরিষ্কারের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা বলেন, “আমরা অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কচুরিপানা পরিষ্কার করছি এবং পাখির বসার জন্য ক্যানোপি প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিযায়ী পাখির জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ময়নাদ্বীপকে তৈরি করার জন্য আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

বর্ষা মৌসুমে জলাশয়ে কচুরিপানার বিস্তার ঘটায় পাখির বিচরণ ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জলজ উদ্ভিদ ও জলাশয়ের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে পরিচর্যার ক্ষেত্রে পাখির আশ্রয়, খাদ্যসংস্থান এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থলের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে পাখিদের বসার জন্য ক্যানোপি প্রস্তুতের কাজও চলছে। এসব প্রস্তুতির মাধ্যমে পাখিদের নিরাপদে অবস্থান ও বিশ্রামের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পাখির প্রকৃত চাহিদা ও স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

এ বছর কত প্রজাতির পাখি আসবে, এখনো নিশ্চিত নয়

ময়নাদ্বীপে এ বছর কী পরিমাণ ও কত প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটতে পারে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পাখির প্রজাতি ও সংখ্যা জানতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গণনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা বলেন, “আমরা এখনো এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাইনি। কিছু পাখি সকালবেলা ময়নাদ্বীপ এলাকায় উড়তে দেখা যায়। আমরা এ বছর এখনো তাদের প্রজাতির সংখ্যা গণনা করতে পারিনি। ময়নাদ্বীপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে আমরা সঠিকভাবে তা জানাতে পারব। পাখির সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। তাই আমরা আশা করি, এ বছর গত বছরের তুলনায় বেশি সংখ্যক পাখি আসবে।”

তবে গত বছরের তুলনায় পাখির সংখ্যা বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত হতে নিয়মিত গণনা ও পর্যবেক্ষণের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। পাখির প্রজাতি, আগমনের সময়, অবস্থানের স্থায়িত্ব এবং জলাশয়ের পরিবেশগত পরিবর্তনের তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে ময়নাদ্বীপের পাখি সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

পরিযায়ী পাখির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ জলাভূমি

পরিযায়ী পাখিরা সাধারণত খাদ্য, উপযুক্ত আবহাওয়া ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। শীতকালে বাংলাদেশে আসা এসব পাখির জন্য জলাভূমি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। জলাশয় ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে তারা খাদ্য সংগ্রহ করে এবং বিশ্রামের সুযোগ পায়। জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হলে এসব পাখির বিচরণ ও টিকে থাকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পরিবেশগত দিক থেকেও জলাভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। জলজ উদ্ভিদ, মাছ, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, পাখি এবং অন্যান্য জীবের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে জলাভূমিতে একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠে। এ ব্যবস্থার কোনো একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব অন্য অংশেও পড়তে পারে। তাই পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে গিয়ে জলাশয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরিবেশগত পরামর্শ অনুযায়ী, জলাভূমি সংরক্ষণে শুধু দৃশ্যমান আগাছা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; পানির গুণগত মান, প্রাকৃতিক খাদ্যসংস্থান, আশপাশের উদ্ভিদ, মানুষের চলাচল এবং শব্দদূষণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা দরকার। একই সঙ্গে পাখির আবাসস্থলে অপ্রয়োজনীয় মানুষের ভিড় ও বিরক্তি কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

শিকার ও বিরক্তি প্রতিরোধেও প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

অতিথি পাখির আগমনকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে পাখির স্বাভাবিক বিচরণ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাখিকে খুব কাছ থেকে তাড়া করা, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, ঢিল ছোড়া কিংবা ছবি তোলার জন্য তাদের বিশ্রামের জায়গায় অনুপ্রবেশ করা পাখির জন্য চাপের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের মতো ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ, শিক্ষার্থী এবং পরিবেশপ্রেমীদের সমন্বিত উদ্যোগে ময়নাদ্বীপে পাখিবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক বার্তা, নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ এলাকা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পাখির নিরাপত্তায় আচরণবিধি প্রচার কার্যকর হতে পারে।

পাশাপাশি নিয়মিত পাখি গণনা, প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং জলাশয়ের পরিবেশগত অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে সংরক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সহজ হবে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পাখি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি সংরক্ষণের দায়িত্ব

নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ কেবল শীতের অতিথি পাখি দেখার একটি আকর্ষণীয় স্থান নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শীত মৌসুমে পাখির আগমনকে ঘিরে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার দায়িত্বও সবার।

কচুরিপানা পরিষ্কার, পাখির বসার উপযোগী স্থান তৈরি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিচর্যা, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি। শুধু শীত মৌসুমে নয়, সারা বছর জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ময়নাদ্বীপ পরিযায়ী পাখির জন্য আরও উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

শীতের অতিথিদের আগমনে আবারও মুখর হয়ে উঠুক নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ—এমন প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। তবে পাখির আগমনকে সত্যিকার অর্থে সার্থক করতে হলে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, আবাসস্থল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ

শীতের অতিথিদের অপেক্ষায় নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ, চলছে আবাসস্থল প্রস্তুতি

প্রকাশের সময়ঃ ১১:২১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে দেশের জলাভূমিগুলোতে শুরু হয় পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা। উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে তুলনামূলক উষ্ণ পরিবেশের সন্ধানে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে নানা প্রজাতির এসব পাখি। তাদের কলতান, ডানার ঝাপটা আর জলাশয়ে অবাধ বিচরণে শীতের প্রকৃতি পায় নতুন প্রাণ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শীতের অতিথিদের আগমনের আগেই প্রস্তুত হচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ময়নাদ্বীপ। দ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়ে জন্মানো কচুরিপানা পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত শীত মৌসুমে অতিথি পাখির বিচরণে মুখর হয়ে উঠেছিল নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়। শীতের শুরুতে পাখিদের আগমন, জলাশয়ে তাদের আনাগোনা এবং দ্বীপের সবুজ-শ্যামল পরিবেশ ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যোগ করেছিল ভিন্ন মাত্রা। গ্রীষ্মের শুরুতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে জলাশয়জুড়ে ব্যাপকভাবে কচুরিপানা জন্মে। শীত মৌসুম সামনে রেখে এখন সেসব কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পাখিদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ময়নাদ্বীপকে পরিযায়ী পাখির জন্য আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে পাখিদের নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশও সমৃদ্ধ হবে।

পাখির কলতানে প্রাণ ফিরে পায় ক্যাম্পাস

প্রতিবছর শীত মৌসুমে নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়ে অতিথি পাখির আগমন ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করে এক ভিন্ন আবহ। পাখি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জলাশয়ের বুকে পাখির বিচরণ, দলবদ্ধভাবে উড়ে বেড়ানো এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

শুধু সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা নয়, ময়নাদ্বীপ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ব্যস্ত শিক্ষাজীবনের ফাঁকে এখানে সময় কাটানো, পাখি পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে পাখিদের উপস্থিতি ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে আগ্রহ তৈরি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম চক্রবর্তী বলেন, “শীতকালে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখির আগমন ঘটে, তার মধ্যে নোবিপ্রবি একটি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। অতিথি পাখির আগমন আমাদের ক্যাম্পাসকে অন্য রকম সৌন্দর্য দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই, পাখিরা নিরাপদে থাকুক এবং প্রতিবছর আরও বেশি পাখি এখানে আসুক।”

তার মতে, পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা গেলে ময়নাদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গঠিত কমিটি

ময়নাদ্বীপের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার থেকে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের লেকের সৌন্দর্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিযায়ী পাখির বিচরণের উপযোগী অভয়ারণ্য তৈরি ও রক্ষায় গবেষণাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিনা আলম এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান ও নিশাত ফারাবি।

কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ময়নাদ্বীপের সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি এর পরিবেশগত গুরুত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, জলাশয়ের পরিচর্যা এবং পাখিদের উপযোগী পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে এলাকাটিকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

কচুরিপানা পরিষ্কার, তৈরি হচ্ছে পাখির বসার স্থান

ময়নাদ্বীপ পরিষ্কারের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা বলেন, “আমরা অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কচুরিপানা পরিষ্কার করছি এবং পাখির বসার জন্য ক্যানোপি প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিযায়ী পাখির জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ময়নাদ্বীপকে তৈরি করার জন্য আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

বর্ষা মৌসুমে জলাশয়ে কচুরিপানার বিস্তার ঘটায় পাখির বিচরণ ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জলজ উদ্ভিদ ও জলাশয়ের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে পরিচর্যার ক্ষেত্রে পাখির আশ্রয়, খাদ্যসংস্থান এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থলের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে পাখিদের বসার জন্য ক্যানোপি প্রস্তুতের কাজও চলছে। এসব প্রস্তুতির মাধ্যমে পাখিদের নিরাপদে অবস্থান ও বিশ্রামের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পাখির প্রকৃত চাহিদা ও স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

এ বছর কত প্রজাতির পাখি আসবে, এখনো নিশ্চিত নয়

ময়নাদ্বীপে এ বছর কী পরিমাণ ও কত প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটতে পারে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পাখির প্রজাতি ও সংখ্যা জানতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গণনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা বলেন, “আমরা এখনো এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাইনি। কিছু পাখি সকালবেলা ময়নাদ্বীপ এলাকায় উড়তে দেখা যায়। আমরা এ বছর এখনো তাদের প্রজাতির সংখ্যা গণনা করতে পারিনি। ময়নাদ্বীপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে আমরা সঠিকভাবে তা জানাতে পারব। পাখির সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। তাই আমরা আশা করি, এ বছর গত বছরের তুলনায় বেশি সংখ্যক পাখি আসবে।”

তবে গত বছরের তুলনায় পাখির সংখ্যা বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত হতে নিয়মিত গণনা ও পর্যবেক্ষণের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। পাখির প্রজাতি, আগমনের সময়, অবস্থানের স্থায়িত্ব এবং জলাশয়ের পরিবেশগত পরিবর্তনের তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে ময়নাদ্বীপের পাখি সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

পরিযায়ী পাখির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ জলাভূমি

পরিযায়ী পাখিরা সাধারণত খাদ্য, উপযুক্ত আবহাওয়া ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। শীতকালে বাংলাদেশে আসা এসব পাখির জন্য জলাভূমি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। জলাশয় ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে তারা খাদ্য সংগ্রহ করে এবং বিশ্রামের সুযোগ পায়। জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হলে এসব পাখির বিচরণ ও টিকে থাকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পরিবেশগত দিক থেকেও জলাভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। জলজ উদ্ভিদ, মাছ, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, পাখি এবং অন্যান্য জীবের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে জলাভূমিতে একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠে। এ ব্যবস্থার কোনো একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব অন্য অংশেও পড়তে পারে। তাই পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে গিয়ে জলাশয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরিবেশগত পরামর্শ অনুযায়ী, জলাভূমি সংরক্ষণে শুধু দৃশ্যমান আগাছা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; পানির গুণগত মান, প্রাকৃতিক খাদ্যসংস্থান, আশপাশের উদ্ভিদ, মানুষের চলাচল এবং শব্দদূষণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা দরকার। একই সঙ্গে পাখির আবাসস্থলে অপ্রয়োজনীয় মানুষের ভিড় ও বিরক্তি কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

শিকার ও বিরক্তি প্রতিরোধেও প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

অতিথি পাখির আগমনকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে পাখির স্বাভাবিক বিচরণ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাখিকে খুব কাছ থেকে তাড়া করা, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, ঢিল ছোড়া কিংবা ছবি তোলার জন্য তাদের বিশ্রামের জায়গায় অনুপ্রবেশ করা পাখির জন্য চাপের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের মতো ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ, শিক্ষার্থী এবং পরিবেশপ্রেমীদের সমন্বিত উদ্যোগে ময়নাদ্বীপে পাখিবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক বার্তা, নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ এলাকা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পাখির নিরাপত্তায় আচরণবিধি প্রচার কার্যকর হতে পারে।

পাশাপাশি নিয়মিত পাখি গণনা, প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং জলাশয়ের পরিবেশগত অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে সংরক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সহজ হবে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পাখি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি সংরক্ষণের দায়িত্ব

নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ কেবল শীতের অতিথি পাখি দেখার একটি আকর্ষণীয় স্থান নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শীত মৌসুমে পাখির আগমনকে ঘিরে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার দায়িত্বও সবার।

কচুরিপানা পরিষ্কার, পাখির বসার উপযোগী স্থান তৈরি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিচর্যা, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি। শুধু শীত মৌসুমে নয়, সারা বছর জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ময়নাদ্বীপ পরিযায়ী পাখির জন্য আরও উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

শীতের অতিথিদের আগমনে আবারও মুখর হয়ে উঠুক নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ—এমন প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। তবে পাখির আগমনকে সত্যিকার অর্থে সার্থক করতে হলে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, আবাসস্থল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।