
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫১২ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ জনে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের। বাকি দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নতুন ভর্তি রোগীদের বড় অংশই ঢাকার বাইরের। ডিএনসিসি এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ১৪৬ জন এবং ডিএসসিসি এলাকায় ১১১ জন। অন্যদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রামে, এক দিনে ২৯৪ জন। এ ছাড়া খুলনায় ২০৬, রাজশাহীতে ১৬২, ময়মনসিংহে ৬০, রংপুরে ৪৪ এবং সিলেটে ৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকলেও জুন থেকে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয় সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের। আর অক্টোবরের ২২ দিনেই মারা গেছেন ১২৩ জন।
১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। এঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট আক্রান্তের ৬২.১ শতাংশ পুরুষ। তবে মোট মৃত্যুর ৫২.৯ শতাংশই নারী।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা। জ্বর, শরীর ব্যথা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অধিকার ডেস্কঃ 






















