
সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমা। আল্লাহ তাআলা এ দিনকে অন্যান্য দিনের ওপর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তাই জুমার দিনে মুমিনের অন্তরে ভালোবাসা ও আত্মিক প্রশান্তির এক বিশেষ অনুভূতি জাগে, মুসলিমদের মধ্যে বাড়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি। মহানবী (সা.)-এর জীবনে এ দিনের বেশ কিছু বিশেষ আমলের কথা পাওয়া যায়। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।
১. ফজরের নামাজে বিশেষ সুরা তিলাওয়াত
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান পড়তেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)। এ সুরা দুটিতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, পুনরুত্থান ও কিয়ামতের দিন সবার সমবেত হওয়ার আলোচনা রয়েছে। এসব ঘটনা জুমার দিনেই ঘটবে বলে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দিতে এ সুরা পড়া হতো।
২. বেশি বেশি দরুদ পাঠ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন তোমরা আমার প্রতি বেশি করে দরুদ পড়ো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয় (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)।
৩. জুমার নামাজ আদায়
ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরাফার দিনের পর এ দিনেই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা অলসতা বা অবহেলা করে জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।
৪. গোসল করা
এ দিনে বিশেষভাবে গোসলের তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী (সা.)-কে তিনি বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে আসে (তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)।
৫. সুগন্ধি ব্যবহার
অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমার দিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)।
৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া
জুমার ফজিলত লাভে এ আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এ বিষয়ে বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত।
৭. ইবাদতে মশগুল থাকা
ইমাম খুতবার জন্য আসার আগ পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতে রত থাকা।
৮. খুতবার সময় পুরোপুরি নীরব থাকা
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালে যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে ‘চুপ থাকো’ বলল, সে একটি অনর্থক কাজ করল (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)।
৯. সুরা কাহফ পাঠ
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পড়বে, দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় তার জন্য নুরে আলোকিত হবে (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)।
১০. জুমার নামাজে নির্ধারিত সুরা পাঠ
নুমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদ ও জুমার নামাজে সুরা আলা ও সুরা গাশিয়াহ পড়তেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, তিনি সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।
১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরা
আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, সুন্দর পোশাক পরে এবং পরিবারের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সুগন্ধি ব্যবহার করে, এরপর মসজিদে এসে কোনো অনর্থক আচরণ করে না এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে সামনে এগোয় না, তার এক জুমা থেকে আরেক জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হয় (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)।
১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো
ওমর (রা.) জুমার দিন দুপুরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
১৩. ক্ষমা প্রার্থনা
এ দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত থাকে। মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে যায় এবং ইমামের নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে, যদি সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৭২৯)।
১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা
আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া অন্য দিন ঠিক দুপুরে নামাজ পড়া অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া অন্যান্য দিনে জাহান্নামের আগুন উত্তপ্ত করা হয় (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জুমার দিনে বা রাতে যিনি মারা যাবেন, তাঁর কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব হবে না, এটি নিশ্চিত নয়।
১৫. বেশি বেশি দোয়া করা
এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ একটি সময় রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইলে তিনি তা দান করেন। মুহূর্তটি অতি অল্প সময়ের (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)। অধিকাংশ আলেমের মতে, এ সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের ঠিক আগ পর্যন্ত (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)।
অধিকার ডেস্কঃ 

























