
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নবাবগঞ্জ জেলা স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের তারিখ, কর্মকাল, হাজিরা বহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোঃ মিজানুর রহমান ও সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকীর নিয়োগের বৈধতা এবং এমপিওভুক্তির জন্য তাঁদের কাগজপত্র নিয়ে তৎপরতার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি যাচাইয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাঃ আবুল কাশেম। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের নিয়োগের তারিখ ও পূর্ববর্তী শিক্ষকদের কর্মকাল নিয়ে অসংগতি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রশ্ন উঠেছে—যে প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি, একাডেমিক স্বীকৃতি এবং শিক্ষক নিয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়ে নথিভিত্তিক প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে নিয়োগের বৈধতা নিশ্চিত না করেই এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না? আর যদি নিয়োগের তারিখ ও কর্মকাল নিয়ে অসংগতি থাকে, তাহলে সেগুলোর ব্যাখ্যা কী?
চার শিক্ষকের নথি যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের চারজন সহকারী শিক্ষকের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, বিশেষ করে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো—ব্যানবেইসের তথ্যসহ অন্যান্য নথি সরেজমিনে যাচাই করে সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাঃ রওশন আরা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক (চলতি দায়িত্ব) মোহাঃ আব্দুর রব।
যে চার শিক্ষকের বিষয়ে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে, তাঁরা হলেন—সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোঃ মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) মোঃ শফিউল আলম, সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মোঃ মাসুদ রানা এবং সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকী।
তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি একদিকে যেমন নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরছে, অন্যদিকে তেমনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, কর্মকাল ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।
প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও স্বীকৃতির সময়রেখায় প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পৌর এলাকায় ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রয়াত চিকিৎসক ও শিক্ষানুরাগী ডা. আ. আ. ম. মেসবাহুল হক বাচ্চুসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে ‘নিম্ন মাধ্যমিক নবাবগঞ্জ জেলা স্কুল’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠদানসহ বিদ্যালয় চালুর প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৪/৫৫০ স্মারক এবং ১২ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখের পত্রের আলোকে ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সাতটি শর্তে পাঁচ বছরের জন্য অস্থায়ী একাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া, ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক পর্যায়ে তিন বছরের জন্য পাঠদানের অনুমতি দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক পর্যায়ে অস্থায়ী একাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘নবাবগঞ্জ জেলা স্কুল’ নামে আপগ্রেড হয়ে এমপিওভুক্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের এসব তারিখ ও স্বীকৃতির ধারাবাহিকতা সামনে রেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—প্রাথমিক অনুমতি, পাঠদানের অনুমোদন এবং একাডেমিক স্বীকৃতির বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন বিধিবিধান কী ছিল? সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানটির কী ধরনের অনুমোদন ছিল এবং তাঁদের নিয়োগের পক্ষে কোন কোন নথি রয়েছে?
বিশেষ করে, ২০০০ সালের ৩ আগস্ট প্রাথমিক অনুমতির তথ্য থাকা অবস্থায় ১৯৯৯ সালে একজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার দাবি করা হলে, সেই নিয়োগ কোন অনুমোদন ও বিধির ভিত্তিতে হয়েছিল—তা যাচাই করা জরুরি। তবে শুধু প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী অনুমতির তারিখ দিয়ে আগের কোনো নিয়োগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ বলা যায় না; সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন আইনগত অবস্থান, পূর্ববর্তী অনুমতি এবং নিয়োগসংক্রান্ত মূল নথি পরীক্ষা করতে হবে।
ধর্মীয় শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ার পর নিয়োগের তারিখ নিয়ে বিতর্ক
প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) পদে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে মাওলানা মোঃ এলাম উদ্দীন কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়, পাবনায় ১৪ দিনব্যাপী বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে দ্বিতীয় ব্যাচে অংশ নেন বলেও তথ্য রয়েছে।
মাওলানা মোঃ এলাম উদ্দীন ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ধর্মীয় শিক্ষকের পদটি শূন্য হয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোহাঃ আবুল কাশেমের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাম উদ্দীনের মৃত্যুর পর মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকী ওই পদে যোগদান করেন।
কিন্তু অভিযোগের জায়গাটি হলো, মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকীর নিয়োগের তারিখ হিসেবে ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৯ উল্লেখ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, তাঁর নিয়োগের দাবিকৃত তারিখটি পূর্ববর্তী ধর্মীয় শিক্ষকের মৃত্যুর প্রায় ১৩ বছর আগের।
এখানেই বড় প্রশ্ন—মাওলানা মোঃ এলাম উদ্দীন ২০১২ সাল পর্যন্ত ওই পদে কর্মরত থাকলে, মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকীর ১৯৯৯ সালের নিয়োগের ভিত্তি কী? তিনি কি ওই সময়ে অন্য কোনো পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, নাকি নিয়োগের তারিখ বা পদসংক্রান্ত নথিতে ভুল রয়েছে? নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, পরিচালনা কমিটির রেজল্যুশন, হাজিরা বহি এবং বেতনসংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করলেই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
একই পদে পূর্ববর্তী শিক্ষক কর্মরত থাকা অবস্থায় পরবর্তী শিক্ষকের নিয়োগের তারিখ দেখানোর বিষয়টি গুরুতর প্রশাসনিক অসংগতির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে মূল নথি যাচাই ছাড়া একে নিশ্চিতভাবে জালিয়াতি হিসেবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয়।
বাংলা শিক্ষক নূর আলম কর্মরত, তবু মিজানুরের নিয়োগ ২০০৫ সালে?
সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদ নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৩-২০১৫ সালের তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে দেখা যায়, মোঃ নূর আলম ২০০৩ সালের ২৪ জুন থেকে নবাবগঞ্জ জেলা স্কুলে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার টিকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিক পদে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। তাঁর অব্যাহতির পর বাংলা শিক্ষক পদটি শূন্য হয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
অথচ মোঃ মিজানুর রহমানের নিয়োগের তারিখ দেখানো হচ্ছে ১৩ অক্টোবর ২০০৫। অর্থাৎ, নথিতে উল্লিখিত তারিখ অনুযায়ী নূর আলমের কর্মকাল চলাকালেই মিজানুর রহমানকে একই বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেখানোর প্রশ্ন সামনে এসেছে।
এখন প্রশ্ন—২০০৫ সালে বাংলা শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে, সেই নিয়োগের প্রকৃতি কী ছিল? তিনি কি ওই সময়ে বাস্তবে দায়িত্ব পালন করতেন, নাকি নিয়োগের তারিখটি পরবর্তী সময়ে নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে? নূর আলমের অব্যাহতির আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক তালিকা, হাজিরা বহি, বেতন-ভাতার হিসাব এবং মিজানুর রহমানের নিয়োগ ও যোগদানপত্রে কী তথ্য রয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট সময়ের মূল নথি পাশাপাশি রেখে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, নিয়োগের তারিখ, যোগদানের তারিখ এবং বাস্তবে দায়িত্ব পালনের সময়কাল একই ছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।
হাজিরা বহিতে স্বাক্ষর নেই—তাহলে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ কোথায়?
শিক্ষক-কর্মচারীদের হাজিরা বহি নিয়েও প্রশ্ন? প্রাপ্ত হাজিরা বহির তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক মোহাঃ আবুল কাশেম, সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাকিব, নাহিন আকতার, শরীফা খাতুন, শায়েমা খাতুন, শফিউল আযম, মাসুদ রানা এবং কর্মচারী রেজাউল ও রীনা রানীর স্বাক্ষর দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে একই হাজিরা বহিতে মোঃ মিজানুর রহমান ও মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকীর স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি ।
তবে যদি তাঁদের নিয়োগের তারিখ যথাক্রমে ২০০৫ ও ১৯৯৯ সাল হয়ে থাকে, তাহলে ওই সময় থেকে কর্মরত থাকার দাবির পক্ষে হাজিরা, বেতন-ভাতা, দায়িত্ব বণ্টন, শিক্ষক তালিকা এবং অন্যান্য সমসাময়িক নথি থাকা প্রত্যাশিত।
এনটিআরসিএ সনদ নিয়ে পুরোনো অঙ্গীকারের তথ্য
প্রাপ্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে থাকা মোহাঃ আবুল কাশেম এবং ছয়জন সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিমকে এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় সনদ অর্জন করতে পারলে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার বা আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সেই লিখিত অঙ্গীকারে মাওলানা মোঃ এলাম উদ্দীন ও মোঃ নূর আলম সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এই নথিটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, এতে সংশ্লিষ্ট সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিচয়, তাঁদের দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া, ওই সময় বিদ্যালয়ে কোন কোন পদ শূন্য ছিল, কোন পদে নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল—সেসব বিষয়ও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অনুমোদনের আগে কোড, ই-মেইল ও ইআইআইএন ব্যবহারের অভিযোগ
প্রতিষ্ঠানটির কোড নম্বর, ই-মেইল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তকরণ নম্বর—ইআইআইএন ব্যবহারের সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের নামে এসব পরিচিতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কোড ও ইআইআইএন কখন বরাদ্দ করা হয়েছে, কোন কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ দিয়েছে, বিদ্যালয়ের নামে ই-মেইল কবে খোলা হয়েছে এবং কোন দাপ্তরিক কাজে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে—তার নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই প্রধান শিক্ষকের এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ
চার শিক্ষকের নিয়োগসংক্রান্ত তদন্ত এবং নথিপত্র নিয়ে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক মোহাঃ আবুল কাশেমের কাছে জানতে চাওয়া হয় বলে প্রতিবেদকে বলেন,
সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) মাওলানা মোঃ এলাম উদ্দীন ২০১২ সালে মারা যাওয়ার পর মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকী যোগদান করেন। একইভাবে ২০১৫ সালে সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদ থেকে মোঃ নূর আলম অব্যাহতি নেওয়ার পর মোঃ মিজানুর রহমান যোগদান করেন।
এরপর তাঁদের নিয়োগের তারিখ যথাক্রমে ১৯৯৯ ও ২০০৫ সালে দেখানোর কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবেদককে বলেন, “আপনি আর বেশি কিছু জানতে চাইয়েন না। তাদের বেতন করার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি।”
চার শিক্ষকের কাগজপত্র যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও ২৬/১০/২০২৬ তারিখে সোমবার তদন্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো প্রয়োজন
নবাবগঞ্জ জেলা স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির বিষয়টি ঘিরে কয়েকটি প্রশ্নের নিরপেক্ষ উত্তর প্রয়োজন—
১. মোহাঃ আব্দুল্লাহীল বাকীর নিয়োগের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৯ হলে, তাঁর নিয়োগের ভিত্তি ও সমসাময়িক নথি কী?
২. মাওলানা মোঃ এলাম উদ্দীন ২০১২ সাল পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলে, একই পদের নিয়োগসংক্রান্ত রেকর্ডে কীভাবে দুই শিক্ষকের সময়কাল প্রতিফলিত হয়েছে?
৩. মোঃ মিজানুর রহমানের নিয়োগের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০০৫ হলে, ২০১৫ সাল পর্যন্ত কর্মরত থাকা বাংলা শিক্ষক মোঃ নূর আলমের সঙ্গে তাঁর দায়িত্বের সম্পর্ক কী ছিল?
৪. সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের দাবিকৃত নিয়োগের সময় থেকে বাস্তবে দায়িত্ব পালনের পক্ষে হাজিরা বহি, বেতন-ভাতার রেকর্ড ও অন্যান্য দাপ্তরিক প্রমাণ রয়েছে কি না?
৫. চার শিক্ষকের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কী বলছে এবং এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট নথিগুলো কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে?
৬. বিদ্যালয়ের কোড, ই-মেইল ও ইআইআইএন ব্যবহারের সময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের তারিখের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না?
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 






















