
গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার আট আসামির মধ্যে ছয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় চারজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন, আর দুইজন পলাতক রয়েছেন। বাকি দুই আসামি বিচার চলাকালীন মৃত্যুবরণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলিগ্রামের কৃষক মেছের আলীর সঙ্গে একই গ্রামের সোলেমান মৃধার দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এই বিরোধই শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত পরিণতির দিকে গড়ায়।
১৯৯৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রতিবেশী মছিরন বিবি কৌশলে মেছের আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তার চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সিংড়া থানায় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরবর্তীতে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকে। এই সময়ের মধ্যে দুই আসামির মৃত্যু হয় এবং দুইজন আত্মগোপনে চলে যায়।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অবশেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট শাহেদ মাহমুদ টিটু বলেন,“দীর্ঘদিন পর হলেও এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।”
স্থানীয়দের মতে, এত দীর্ঘ সময় পর রায় হলেও বিচার পাওয়া গেছে—এটাই বড় স্বস্তি। তবে বিচারপ্রক্রিয়া এত দীর্ঘ হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায় একদিকে যেমন ন্যায়বিচারের উদাহরণ, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার দিকটিও সামনে নিয়ে এসেছে।
সাজেদুর রহমান,নাটোর 
























