ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ময়মনসিংহে সংযোগ সভা

আজ ময়মনসিংহ নগরের কাচিঝুলি কমিউনিটি ট্রাস্ট ফোরাম হলরুমে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার (পিসিসি)-এর উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার, অর্থনৈতিক মর্যাদা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সভা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মী এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সভা থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের কাচিঝুলি কমিউনিটি ট্রাস্ট ফোরাম হলরুমে “ইকুয়াল রাইটস এন্ড ইকোনমিক ডিগনিটি ফর মারজিনালাইজড কমিউনিটি ইন ময়মনসিংহ” প্রকল্পের আওতায় প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার (পিসিসি)-এর উদ্যোগে এ সংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পিসিসি’র কো-অর্ডিনেটর রাজন বীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাজহারুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা, পিএস টিসির প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ইকবাল হোসেন, সিস্টার অপ্নেশা কিম, সদর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত শারমিন তনু, মেরী স্টোপস ক্লিনিকের ইনচার্জ আজিজুর রহমান এবং বিএনসিবি চক্ষু হাসপাতালের ইন্সপেক্টর চিন্ময় সেন দীপ।

বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত নারী-শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য, সমন্বিত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক মো. মাজহারুল হক চৌধুরী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা সবার মৌলিক অধিকার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সেবার আওতায় আনতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও আরও সক্রিয় হতে হবে।”

সভায় বক্তারা আরও বলেন, শুধু স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিলেই হবে না, সেবার মানোন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক আচরণ এবং সেবাপ্রাপ্তিতে বৈষম্য দূর করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় শিশু ও যুবদের অভিভাবক এবং হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি ফোরামের সদস্যরা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

সভায় উঠে আসে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কাউকে পেছনে ফেলে না রাখার নীতির আলোকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বক্তারা মনে করেন, এমন সংযোগ সভা পারস্পরিক সমন্বয় ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ময়মনসিংহে সংযোগ সভা

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার, অর্থনৈতিক মর্যাদা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সভা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মী এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সভা থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের কাচিঝুলি কমিউনিটি ট্রাস্ট ফোরাম হলরুমে “ইকুয়াল রাইটস এন্ড ইকোনমিক ডিগনিটি ফর মারজিনালাইজড কমিউনিটি ইন ময়মনসিংহ” প্রকল্পের আওতায় প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার (পিসিসি)-এর উদ্যোগে এ সংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পিসিসি’র কো-অর্ডিনেটর রাজন বীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাজহারুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা, পিএস টিসির প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ইকবাল হোসেন, সিস্টার অপ্নেশা কিম, সদর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত শারমিন তনু, মেরী স্টোপস ক্লিনিকের ইনচার্জ আজিজুর রহমান এবং বিএনসিবি চক্ষু হাসপাতালের ইন্সপেক্টর চিন্ময় সেন দীপ।

বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত নারী-শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য, সমন্বিত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক মো. মাজহারুল হক চৌধুরী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা সবার মৌলিক অধিকার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সেবার আওতায় আনতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও আরও সক্রিয় হতে হবে।”

সভায় বক্তারা আরও বলেন, শুধু স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিলেই হবে না, সেবার মানোন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক আচরণ এবং সেবাপ্রাপ্তিতে বৈষম্য দূর করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় শিশু ও যুবদের অভিভাবক এবং হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি ফোরামের সদস্যরা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

সভায় উঠে আসে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কাউকে পেছনে ফেলে না রাখার নীতির আলোকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বক্তারা মনে করেন, এমন সংযোগ সভা পারস্পরিক সমন্বয় ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।