ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

স্বাধীন গণমাধ্যমেই গণতন্ত্রের শক্তি- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে নতুন করে ভাবনার ডাক

সংগৃহীত ছবি।

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস (World Press Freedom Day 2026)’। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে র‍্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমকে ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে (World Press Freedom Index) বাংলাদেশ ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থানে রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা অবনতি নির্দেশ করে। এই অবস্থান দেশের গণমাধ্যম পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা, আইনি ও প্রশাসনিক চাপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ, এবং তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা-এসবই গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ও গুজবের বিস্তার জনআস্থাকে দুর্বল করছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে বর্তমানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অনেক দেশে সাংবাদিকরা হুমকি, নির্যাতন, গ্রেপ্তার এমনকি হত্যার ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন।

বিশ্ব নেতারা এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং সত্য উদঘাটনে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এবারের প্রতিপাদ্য-“Shaping a Future at Peace: Promoting Press Freedom for Human Rights, Development, and Security”
অর্থাৎ, শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠনে মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকদের বিষয় নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই প্রয়োজন-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশ গড়ে তোলা,আইনি কাঠামোকে সাংবাদিকবান্ধব করা,তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার বাস্তবায়ন,জনআস্থা পুনর্গঠন।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের এই বার্তা স্পষ্ট-সত্য বলার সাহস, তথ্যের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

স্বাধীন গণমাধ্যমেই গণতন্ত্রের শক্তি- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে নতুন করে ভাবনার ডাক

প্রকাশের সময়ঃ ১০:২৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস (World Press Freedom Day 2026)’। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে র‍্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমকে ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে (World Press Freedom Index) বাংলাদেশ ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থানে রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা অবনতি নির্দেশ করে। এই অবস্থান দেশের গণমাধ্যম পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা, আইনি ও প্রশাসনিক চাপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ, এবং তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা-এসবই গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ও গুজবের বিস্তার জনআস্থাকে দুর্বল করছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে বর্তমানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অনেক দেশে সাংবাদিকরা হুমকি, নির্যাতন, গ্রেপ্তার এমনকি হত্যার ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন।

বিশ্ব নেতারা এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং সত্য উদঘাটনে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এবারের প্রতিপাদ্য-“Shaping a Future at Peace: Promoting Press Freedom for Human Rights, Development, and Security”
অর্থাৎ, শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠনে মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকদের বিষয় নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই প্রয়োজন-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশ গড়ে তোলা,আইনি কাঠামোকে সাংবাদিকবান্ধব করা,তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার বাস্তবায়ন,জনআস্থা পুনর্গঠন।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের এই বার্তা স্পষ্ট-সত্য বলার সাহস, তথ্যের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয়।