
উৎসবমুখর পরিবেশ, দর্শকদের প্রাণচাঞ্চল্য আর তরুণ ক্রীড়াবিদদের দুর্দান্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬” এর বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফুটবল, দাবা ও অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও সম্মাননা।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ক্রীড়াবিদ ও দর্শকদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিশেষ করে ফুটবল ফাইনালকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় বাড়তি উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতামূলক আবহ।
ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ও গফরগাঁও উপজেলা দল। নির্ধারিত সময়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে দুই দল ২-২ গোলে সমতায় থাকলে ম্যাচের নিষ্পত্তি গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে গফরগাঁও উপজেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা দল।
ফাইনাল ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দর্শকরা উপভোগ করেন দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রাখা ম্যাচটি উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এছাড়াও দাবা ও অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদরা নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতার পরিচয় দেন, যা ভবিষ্যৎ ক্রীড়া বিকাশে আশাবাদী করে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুল ইসলাম,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশীদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এ. কে. এম মাহবুবুল আলম,জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য এনামুল হক আকন্দ লিটন,বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন,
“বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর মতো আয়োজন তরুণদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
তিনি আরও বলেন,
“প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর মাধ্যমে খেলাধুলায় নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। খেলোয়াড়রাই দেশের সম্পদ, ধীরে ধীরে তারাই জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্রামবাংলার লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও সহায়ক।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দল ও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি, মেডেল ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এসময় স্টেডিয়ামজুড়ে বিজয়ীদের উল্লাস আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
সংশ্লিষ্টদের আশা, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং ময়মনসিংহের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রতিভা বিকাশের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 

























