
সোমবার রাত সাড়ে নয়টার কিছু আগে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন ঘটে এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.০। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা, যা রাজধানীর আগারগাঁও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪.৪ এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে নিশ্চিত করেছে।
ভূকম্পনটি রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়। এতে মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।
ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জ
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দেশের অন্যতম ভূকম্পন-সংবেদনশীল এলাকা। এই অঞ্চলের ভূগর্ভে মধুপুর ফল্ট, শীতলক্ষ্যাসংলগ্ন সুপ্ত ফল্ট এবং ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটের প্রভাব বিদ্যমান।
ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গল-নরসিংদী অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সাম্প্রতিক অতীতে গত বছরের ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবনের ক্ষতি হয় এবং কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, রূপগঞ্জের এই ভূমিকম্পকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শীতলক্ষ্যা নদীর আশপাশের সুপ্ত ফল্টগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে। ছোট মাত্রার ভূমিকম্প ভূগর্ভস্থ সঞ্চিত চাপ পুরোপুরি মুক্ত করে না, বরং এটি ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এতদিন দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি আলোচনায় ডাউকি ফল্ট, মধুপুর ফল্ট ও আরাকান সাবডাকশন জোন প্রাধান্য পেলেও এবার ঢাকার উপকণ্ঠের স্থানীয় ফল্টগুলোর সক্রিয়তা নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঢাকার চারপাশের ফল্টগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জাতীয় ভূমিকম্প ঝুঁকি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মাইক্রোজোনেশন সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি।
বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নগরী ঢাকায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেন এই বিশেষজ্ঞ। তাই ভবন নির্মাণ বিধিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 





















