
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতান, রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জে.এম. নাজমুল ইসলাম মিঠু, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানি, পৌর জামায়াতের আমির হাফেজ ফজলুল করিম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কাশেম, রায়পুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই আন্দোলনের নেতারা।
আলোচনায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জুলাইয়ের শহিদদের অবদান জাতি চিরদিন মনে রাখবে। তাদের আদর্শ বুকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান বক্তারা। এ সময় শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
সভায় শহিদ পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তানদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শহিদ ফয়াজের মা সবুরা খাতুন বলেন, দেশ যদি সঠিক পথে চলে তবেই তার সন্তানের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। তিনি বলেন, দেশ যেন কোনোভাবেই আগের অবস্থায় ফিরে না যায়, তাহলেই তার ছেলের জীবনদানের প্রকৃত মূল্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
শহিদ ওসমান পাটোয়ারীর মা রেহানা বেগম নিজেকে গর্বিত শহিদ জননী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তার ছেলের মনে শহিদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল এবং আন্দোলন থেকে সরে না আসার দৃঢ় সিদ্ধান্তের কথা শেষবার ফোনে জানিয়েছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই ছেলের শাহাদাতের খবর পান তিনি।
শহিদ ওসমান পাটোয়ারীর বাবা আব্দুর রহমান বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটলেও সব ক্ষেত্র এখনো পুরোপুরি মুক্ত হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানেরা নয়, বরং সাধারণ পরিবারের সন্তানরাই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন, তাই শহিদ পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করার কোনো প্রচেষ্টা কাম্য নয়। তিনি জানান, তার ছেলের শরীরে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল এবং এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মেহেরাব ইমরান আকিব, লক্ষ্মীপুর 




















