ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের গণমিছিল ও সমাবেশ সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালে ভয়াবহ বজ্রাঘাতে মাঠেই ফুটবলারের মৃত্যু ‘ডিসেম্বরে দেশে এলে রাজপথেই দেখা হবে’- ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে আবারও ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান হতে পারে-ইবি উপাচার্য সিঙ্গেল মায়েদের স্বাবলম্বিতা ও বিহারী শিশুদের শিক্ষায় অনন্য সামাজিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের রাজপথের সংঘাতের প্রভাব শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না মায়ের উদ্দেশে শেষ চিঠি লিখেই আন্দোলনে যান আনাস

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র সোহান হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্কুলছাত্র সোহান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত ।সংগৃহীত ছবি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। এর পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশালের বিমানবন্দর থানার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। এদের মধ্যে সাগর মুন্সি এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার তথ্যানুযায়ী, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। করোনা মহামারির সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন পরিবার তার জন্য ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেয়, যা চালিয়ে সে ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের কাজ করত।

২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সোহান আর ফিরে আসেননি। বিকেলে পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলার পর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সন্ধ্যায় খাসের চর থেকে ধল্লা বাজারগামী রাস্তার পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে তার অটোরিকশা বা মোবাইল ফোন কোনোটিই পাওয়া যায়নি।

তদন্তে জানা যায়, অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়েছিল।

ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

মামলার বিচারকালে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র সোহান হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। এর পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশালের বিমানবন্দর থানার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। এদের মধ্যে সাগর মুন্সি এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার তথ্যানুযায়ী, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। করোনা মহামারির সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন পরিবার তার জন্য ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেয়, যা চালিয়ে সে ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের কাজ করত।

২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সোহান আর ফিরে আসেননি। বিকেলে পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলার পর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সন্ধ্যায় খাসের চর থেকে ধল্লা বাজারগামী রাস্তার পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে তার অটোরিকশা বা মোবাইল ফোন কোনোটিই পাওয়া যায়নি।

তদন্তে জানা যায়, অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়েছিল।

ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

মামলার বিচারকালে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করেন।