
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বসতবাড়ি ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বাড়ি ভাঙার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (২৭)-এর সঙ্গে একই গ্রামের সোনিয়া খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হলে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর রফিকুল একই এলাকার আরেক নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং প্রায় এক বছর তাদের সংসার চলতে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি রফিকুল তার প্রথম স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করে তাকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে তার বসতবাড়ি ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
খেজুরতলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দীন বলেন, সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাড়ি ভাঙার বিষয়টি দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তার প্রতিকার আইনি প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত, ব্যক্তিগতভাবে সম্পত্তির ক্ষতি করা সমর্থনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে রফিকুল ইসলাম বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার বা তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মুকুল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তিনি দাবি করেন, রফিকুল পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে বিদেশে চলে যাওয়ায় তার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকার ডেস্ক: 




















