ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, নওগাঁর আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর মৃত্যু বাঁশখালী-মিরসরাই উপকূলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা- প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলা- কারাগারে খল অভিনেতা ডন চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল টাকা তৈরির কারখানায় র‌্যাবের অভিযান, আটক ২ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত বিদ্যুৎ নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিচারককে ঘেরাও-বিক্ষোভ, এজলাসে ভাঙচুরের অভিযোগ সাপাহার সীমান্তে বিজিবির টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের যাত্রা শুরু বেরোবি সনাতনী বিদার্থী সংসদের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে কাকলী-শুভ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সিরাজুল ইসলাম ছিলেন আপসহীন- মির্জা ফখরুল খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় প্রাণিসম্পদ খাতের বিকল্প নেই- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বাঁশখালী-মিরসরাই উপকূলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা- প্রধানমন্ত্রী

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০১:১০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৮ Time View

বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, সমুদ্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে দেশের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে কীভাবে শিল্পায়নের আওতায় আনা যায়, কীভাবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা যায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়—তা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। শিল্পায়ন থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ করা হবে।

৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি লবণচাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০০ শয্যার

দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যে ৫০টি শয্যা রয়েছে, এর মধ্যে ৩০টি শয্যার ব্যবস্থা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে আরও ২০টি শয্যা যুক্ত করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। অল্প সময়ের মধ্যে এসব হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা পান, সে লক্ষ্যেই কাজ করবে সরকার।

বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কেউ যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সুযোগ যেন কেউ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিল। আগামী ১০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে, তা সংসদে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। ফসল উৎপাদনে যেমন বিপ্লব ঘটাতে হবে, তেমনি শিল্পায়নেও গতি আনতে হবে। এখন দেশের উন্নয়ন ও গড়ার সময়।

দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হবে। উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

বাঁশখালীকে পর্যটন এলাকা ঘোষণার দাবি

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাঁশখালী আসনের বিএনপি দলীয় এমপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম বাপ্পা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাঁশখালীর সমুদ্রসৈকতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এলাকাটিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান বাপ্পা। একই সঙ্গে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণচাষিদের জন্য কার্যকর নীতিমালা, জলকদর খাল রক্ষা এবং পিএবি সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান তিনি।

লবণচাষিদের জন্য সুষ্ঠু নীতিমালা করা হলে তারা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘বাপ্পা যা চেয়েছে, তার চেয়ে বেশি দিলে সমস্যা আছে?’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর মানুষের কথা শুনতে এসেছেন। বাপ্পা যেসব দাবি জানিয়েছেন, তার চেয়েও বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বাঁশখালী এমনিতেই সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে এখানকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘তারেক রহমানের রাজনীতি ভিন্ন ধরনের’

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের রাজনীতি ভিন্ন ধরনের। দেশের শিশু থেকে প্রবীণ—সব শ্রেণির মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর ধারণা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসা কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

ছয়জনের হাতে ঘরের চাবি

অনুষ্ঠানে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ জনের হাতে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।

গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘরের মধ্যে ছয়টি ঘরের সুবিধাভোগীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, নওগাঁর আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

বাঁশখালী-মিরসরাই উপকূলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা- প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, সমুদ্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে দেশের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে কীভাবে শিল্পায়নের আওতায় আনা যায়, কীভাবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা যায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়—তা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। শিল্পায়ন থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ করা হবে।

৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি লবণচাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০০ শয্যার

দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যে ৫০টি শয্যা রয়েছে, এর মধ্যে ৩০টি শয্যার ব্যবস্থা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে আরও ২০টি শয্যা যুক্ত করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। অল্প সময়ের মধ্যে এসব হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা পান, সে লক্ষ্যেই কাজ করবে সরকার।

বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কেউ যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সুযোগ যেন কেউ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিল। আগামী ১০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে, তা সংসদে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। ফসল উৎপাদনে যেমন বিপ্লব ঘটাতে হবে, তেমনি শিল্পায়নেও গতি আনতে হবে। এখন দেশের উন্নয়ন ও গড়ার সময়।

দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হবে। উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

বাঁশখালীকে পর্যটন এলাকা ঘোষণার দাবি

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাঁশখালী আসনের বিএনপি দলীয় এমপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম বাপ্পা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাঁশখালীর সমুদ্রসৈকতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এলাকাটিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান বাপ্পা। একই সঙ্গে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণচাষিদের জন্য কার্যকর নীতিমালা, জলকদর খাল রক্ষা এবং পিএবি সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান তিনি।

লবণচাষিদের জন্য সুষ্ঠু নীতিমালা করা হলে তারা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘বাপ্পা যা চেয়েছে, তার চেয়ে বেশি দিলে সমস্যা আছে?’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর মানুষের কথা শুনতে এসেছেন। বাপ্পা যেসব দাবি জানিয়েছেন, তার চেয়েও বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বাঁশখালী এমনিতেই সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে এখানকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘তারেক রহমানের রাজনীতি ভিন্ন ধরনের’

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের রাজনীতি ভিন্ন ধরনের। দেশের শিশু থেকে প্রবীণ—সব শ্রেণির মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর ধারণা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসা কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

ছয়জনের হাতে ঘরের চাবি

অনুষ্ঠানে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ জনের হাতে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।

গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘরের মধ্যে ছয়টি ঘরের সুবিধাভোগীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।