
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, জীবন ও সুস্থতার সুরক্ষায় তাদের অবদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) কর্মসূচির আয়োজন করে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সমাবেশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলা শাখার সভাপতি কর্নেলিয়াস মুর্মুর সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, আদিবাসী যুবনেতা সিপোনেন মেহব্রুম, ফোরামের সম্পাদিকা মলিকা সরেণ, এনজিও সিনেরিয়ার ম্যানেজার ও সমাজকর্মী নিকোলাস মুরমু এবং আদিবাসী কোল নেত্রী কল্পনা কোল মুর্মুসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা।
এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার, ভূমি সুরক্ষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন এবং ঐতিহ্যগত ভূমি সুরক্ষায় কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য রাজধানী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন এবং সাঁওতালসহ বিভিন্ন আদিবাসী শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়। জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে সমাবেশে।
বক্তারা আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী ও রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল ও পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘তারা আদিবাসী, তবে আদিম নয়।’ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেও অনেক পরিবার বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেন তারা। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আদিবাসী পরিবারগুলোর সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ পরিচয়ের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 






















