
ভারতের হরিয়ানার পাঞ্চকুলার একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যা। সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য সামনে আসার পর শিশুদের নিরাপত্তা ও স্কুল কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি পাঞ্চকুলার সংস্কৃতি মডেল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র কিন্ডারগার্টেনের শিশুকন্যাটিকে টেনে-হিঁচড়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর তার মাথা দুবার ডেস্কের ওপর আঘাত করে। পরে মেঝেতে ফেলে লাথি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে পাথর ও ফুলের টব দিয়ে শিশুটিকে উপর্যুপরি আঘাত করে সে। এতে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যায়। এরপরও হামলা চালিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় ওই শিক্ষার্থী। প্রায় দেড় মিনিট পর সে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।
পরে শিশুটির বাবা-মা তাকে নিতে স্কুলে এলে অভিযুক্ত বালকই তাঁদের শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে সে জানায়, ‘আপকি বাচ্চি ইহা পড়ি হ্যায়’—অর্থাৎ, ‘আপনার মেয়ে এখানে পড়ে আছে’।
এরপর আহত শিশুটিকে দ্রুত পাঞ্চকুলার সেক্টর-৬-এর সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আঘাতের গুরুতরতা ও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে (পিজিআই) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এত অল্প বয়সী একটি শিশু কেন এমন সহিংস আচরণ করল, তা জানতে অভিযুক্ত শিশুটির বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচার দাবি, অভিযুক্ত শিশুর আচরণ নিয়ে শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করার কথা বলেছিল তার ভাতিজি। এরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত বালকের মধ্যে আগেও আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা গেছে। কুকুরকে মারধরসহ তার বিরুদ্ধে আগে একাধিক অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছেন হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রী মহিপাল ধান্দা। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।
অধিকার ডেস্কঃ 






















