ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কেড়ে নিল কি ফুলবাড়িয়ার রহিমকে? স্বজনদের আহাজারি

আব্দুর রহিম গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে শ্রমিক হিসেবে রাশিয়ায় যান।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক যুবকের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হওয়ার আশঙ্কার খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় পাড়ি জমানো আব্দুর রহিম (৩০) নামের ওই যুবকের সঙ্গে গত ২৮ এপ্রিলের পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। পরে বিভিন্ন সূত্রে তারা জানতে পারেন, রাশিয়ান আর্মির হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হকের বড় ছেলে আব্দুর রহিম গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে শ্রমিক হিসেবে রাশিয়ায় যান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিদেশে ভালো আয়ের আশায় ঘর ছাড়লেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যুদ্ধের বিভীষিকায় হারিয়ে যেতে বসেছেন তিনি।

স্বজনদের দাবি, গত ১০ মে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, রাশিয়ান বাহিনীর সঙ্গে থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন রহিম। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ, লিখিত নথি কিংবা মরদেহ পাওয়া যায়নি।

রহিমের পরিবার জানায়, রাশিয়ায় অবস্থানরত তার এক পরিচিত ব্যক্তি ফোনে তাদের এ তথ্য জানান। সেই খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারজুড়ে চলছে কান্না আর উৎকণ্ঠা। প্রতিদিনই ছেলের ফোনের অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন বৃদ্ধ বাবা-মা।

রহিমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বিদেশে গিয়েছিল সংসারের জন্য। এখন মানুষজন বলছে সে আর বেঁচে নেই। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। একবার শুধু ছেলের কণ্ঠ শুনতে চাই।”

স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান রহিম পরিবারের হাল ধরতেই বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে জড়িয়ে পড়ায় এখন তার জীবিত ফেরার আশাই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে বাংলাদেশ পুলিশের ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ রহিমের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মা, ভাই ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে প্রিয়জন হারানোর আশঙ্কা—সব মিলিয়ে এখন নামাপাড়া গ্রামে বইছে গভীর শোকের বাতাস। রহিমের পরিবারের একটাই আকুতি—“যদি বেঁচে থাকে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক; আর যদি না থাকে, অন্তত সত্যিটা জানানো হোক।”

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কেড়ে নিল কি ফুলবাড়িয়ার রহিমকে? স্বজনদের আহাজারি

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৯:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক যুবকের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হওয়ার আশঙ্কার খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় পাড়ি জমানো আব্দুর রহিম (৩০) নামের ওই যুবকের সঙ্গে গত ২৮ এপ্রিলের পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। পরে বিভিন্ন সূত্রে তারা জানতে পারেন, রাশিয়ান আর্মির হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হকের বড় ছেলে আব্দুর রহিম গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে শ্রমিক হিসেবে রাশিয়ায় যান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিদেশে ভালো আয়ের আশায় ঘর ছাড়লেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যুদ্ধের বিভীষিকায় হারিয়ে যেতে বসেছেন তিনি।

স্বজনদের দাবি, গত ১০ মে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, রাশিয়ান বাহিনীর সঙ্গে থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন রহিম। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ, লিখিত নথি কিংবা মরদেহ পাওয়া যায়নি।

রহিমের পরিবার জানায়, রাশিয়ায় অবস্থানরত তার এক পরিচিত ব্যক্তি ফোনে তাদের এ তথ্য জানান। সেই খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারজুড়ে চলছে কান্না আর উৎকণ্ঠা। প্রতিদিনই ছেলের ফোনের অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন বৃদ্ধ বাবা-মা।

রহিমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বিদেশে গিয়েছিল সংসারের জন্য। এখন মানুষজন বলছে সে আর বেঁচে নেই। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। একবার শুধু ছেলের কণ্ঠ শুনতে চাই।”

স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান রহিম পরিবারের হাল ধরতেই বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে জড়িয়ে পড়ায় এখন তার জীবিত ফেরার আশাই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে বাংলাদেশ পুলিশের ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ রহিমের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মা, ভাই ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে প্রিয়জন হারানোর আশঙ্কা—সব মিলিয়ে এখন নামাপাড়া গ্রামে বইছে গভীর শোকের বাতাস। রহিমের পরিবারের একটাই আকুতি—“যদি বেঁচে থাকে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক; আর যদি না থাকে, অন্তত সত্যিটা জানানো হোক।”