
দীর্ঘ ১৭ মাস কারাভোগ শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৩৬ বাংলাদেশি যুবক। বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়। এর মধ্যে বগুড়া, খুলনা, নাটোর, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন। দেশে ফেরার পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশের তত্ত্বাবধানে মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা কয়েকজন জানান, উন্নত কাজ ও ভালো আয়ের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে সীমান্তপথে ভারতে যান তারা। সেখানে গার্মেন্টসে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। আদালতের নির্দেশে তাদের ভারতের চেন্নাই সেন্ট্রাল কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে দেশে ফেরার সুযোগ পান তারা।
দেশে ফিরে কয়েকজন যুবক অভিযোগ করেন, ভারতে আটক অবস্থায় দেশে ফেরানোর আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, এখনো ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর ফিল্ড অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা এসব যুবককে ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হন। যেহেতু তারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার আঢ্য জানান, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজের প্রলোভনে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে না।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















