
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী রাস্তার পাশে সন্তান প্রসব করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতকের পিতৃপরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অসহায় ওই নারীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও এখনো জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
শুক্রবার সকালে উপজেলার ভূরঘাটা মজিদবাড়ি বড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় জহুরা (৩০) নামের ওই নারীকে প্রসব বেদনায় কাতরাতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে সেখানেই তিনি একটি ফুটফুটে সন্তান প্রসব করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
স্থানীয় কয়েকজন মানবিক ব্যক্তি দ্রুত মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে এলাকায় ভবঘুরে অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম ছিলেন না। এমন অবস্থায় কে বা কারা তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার করেছে—তা নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা চলছে।
ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় একজন নারীর ওপর এমন নৃশংসতা শুধু অপরাধ নয়, মানবতার জন্যও লজ্জাজনক। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনাটি প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য অভিযুক্তদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নারী ও শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে নারীরা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকেন। তাদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন অসহায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সৈয়দ নুর আহছান, বরিশাল 




















