ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ঈদের নতুন জামা এখন শুধু স্মৃতি, স্ত্রী-ছেলেকে হারিয়ে আহাজারি সুজনের বগুড়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে নানা কর্মসূচি হাসিকে অস্ত্র বানানো এক কিংবদন্তি- জন্মদিনে হুমায়ূন ফরীদিকে স্মরণ পরকীয়ার জেরে শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে শিশুর দুই হাত ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু “জনগণের টাকায় উন্নয়ন, নাকি ফাঁকিবাজির উৎসব?”-জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ কালকিনিতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তান প্রসব

ঈদের নতুন জামা এখন শুধু স্মৃতি, স্ত্রী-ছেলেকে হারিয়ে আহাজারি সুজনের

শুক্রবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকায় সুজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের ভারে স্তব্ধ পুরো পরিবেশ।

ঈদকে ঘিরে ছিল ছোট্ট সংসারের অনেক স্বপ্ন। কষ্টের উপার্জনে স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন দিনমজুর সুজন মিয়া। কিন্তু সেই আনন্দের পথেই নেমে আসে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। নরসিংদী রেলস্টেশনে দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান তার স্ত্রী সাথী বেগম ও দেড় বছরের শিশু ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেন। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে যায় একটি পরিবার।

শুক্রবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকায় সুজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের ভারে স্তব্ধ পুরো পরিবেশ। ছোট্ট টিনের ঘরের এক কোণে বসে নতুন জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে নির্বাক কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সুজন। পাশে বসে থাকা ছোট মেয়েটিও বাবার কান্না দেখে বারবার চোখ মুছছিল।

স্থানীয়রা জানান, সুজন মিয়া কখনো ইজিবাইক চালিয়ে, কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসার হলেও ঈদে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা ছিল তার সবসময়। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পরিবারকে নিয়ে শহরে গিয়েছিলেন ঈদের কেনাকাটায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন বলেন,
“চোখের সামনে আমার অবুঝ ছেলে আর তার মাকে হারাইলাম। ট্রেন আসতেছে দেখে চিৎকার করছি, দৌড়াইছি, বাঁচানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু পারলাম না। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার কইল—তারা আর বাঁচে নাই।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদের জন্য নতুন জামা কিনছিলাম। ছেলে খুব খুশি আছিল। এখন ওই জামাগুলাই শুধু স্মৃতি হয়ে রইল।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, দেড় বছরের সাফওয়ান ছিল সবার আদরের। নতুন জামা হাতে পেয়ে সে আনন্দে বারবার তা দেখছিল। কিন্তু সেই জামা গায়ে দিয়ে আর ঈদ করা হলো না শিশুটির। ঘরের এক পাশে পড়ে থাকা ছোট্ট জামাটি যেন এখন পুরো পরিবারের শোকের প্রতীক হয়ে আছে।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন।

পুটিয়া ইউনিয়নের সদস্য রতন মিয়া বলেন,
“সুজন খুব কষ্ট করে সংসার চালায়। ছোট্ট সুখের পরিবার ছিল। স্ত্রী আর সন্তানকে হারিয়ে মানুষটা একেবারে ভেঙে পড়েছে।”

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী রেলস্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে স্টেশন অতিক্রম করে। অসাবধানতাবশত রেললাইনের ওপর অবস্থান করায় ট্রেনের ধাক্কায় মা ও শিশু ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে মধ্য কারারচর সাইফুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। সেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এখনও স্বজনদের আহাজারি থামছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের নতুন জামা এখন শুধু স্মৃতি, স্ত্রী-ছেলেকে হারিয়ে আহাজারি সুজনের

ঈদের নতুন জামা এখন শুধু স্মৃতি, স্ত্রী-ছেলেকে হারিয়ে আহাজারি সুজনের

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ঈদকে ঘিরে ছিল ছোট্ট সংসারের অনেক স্বপ্ন। কষ্টের উপার্জনে স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন দিনমজুর সুজন মিয়া। কিন্তু সেই আনন্দের পথেই নেমে আসে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। নরসিংদী রেলস্টেশনে দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান তার স্ত্রী সাথী বেগম ও দেড় বছরের শিশু ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেন। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে যায় একটি পরিবার।

শুক্রবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকায় সুজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের ভারে স্তব্ধ পুরো পরিবেশ। ছোট্ট টিনের ঘরের এক কোণে বসে নতুন জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে নির্বাক কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সুজন। পাশে বসে থাকা ছোট মেয়েটিও বাবার কান্না দেখে বারবার চোখ মুছছিল।

স্থানীয়রা জানান, সুজন মিয়া কখনো ইজিবাইক চালিয়ে, কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসার হলেও ঈদে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা ছিল তার সবসময়। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পরিবারকে নিয়ে শহরে গিয়েছিলেন ঈদের কেনাকাটায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন বলেন,
“চোখের সামনে আমার অবুঝ ছেলে আর তার মাকে হারাইলাম। ট্রেন আসতেছে দেখে চিৎকার করছি, দৌড়াইছি, বাঁচানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু পারলাম না। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার কইল—তারা আর বাঁচে নাই।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদের জন্য নতুন জামা কিনছিলাম। ছেলে খুব খুশি আছিল। এখন ওই জামাগুলাই শুধু স্মৃতি হয়ে রইল।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, দেড় বছরের সাফওয়ান ছিল সবার আদরের। নতুন জামা হাতে পেয়ে সে আনন্দে বারবার তা দেখছিল। কিন্তু সেই জামা গায়ে দিয়ে আর ঈদ করা হলো না শিশুটির। ঘরের এক পাশে পড়ে থাকা ছোট্ট জামাটি যেন এখন পুরো পরিবারের শোকের প্রতীক হয়ে আছে।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন।

পুটিয়া ইউনিয়নের সদস্য রতন মিয়া বলেন,
“সুজন খুব কষ্ট করে সংসার চালায়। ছোট্ট সুখের পরিবার ছিল। স্ত্রী আর সন্তানকে হারিয়ে মানুষটা একেবারে ভেঙে পড়েছে।”

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী রেলস্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে স্টেশন অতিক্রম করে। অসাবধানতাবশত রেললাইনের ওপর অবস্থান করায় ট্রেনের ধাক্কায় মা ও শিশু ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে মধ্য কারারচর সাইফুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। সেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এখনও স্বজনদের আহাজারি থামছে না।