
বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে রাজশাহীর বিখ্যাত কালাই রুটি। দেশের সীমানা পেরিয়ে এবার এই জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ ও সুনাম পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি খেয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেছেন, “দারুণ মজা!”
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর উপশহর নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জনপ্রিয় খাবারের প্রতিষ্ঠান ‘রুমন কালাই হাউজ’ পরিদর্শনে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে পৌঁছে তিনি শুধু খাবারের স্বাদ গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়া গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
দোকানের কারিগরদের হাতে কীভাবে মসুর ও কালাই ডালের মিশ্রণে বিশেষ কৌশলে তৈরি হচ্ছে পাতলা ও সুস্বাদু এই রুটি, তা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দেখেন তিনি। এ সময় নিজের মোবাইল ফোনে রুটি তৈরির নানা মুহূর্তের ছবি ধারণ করেন এবং কর্মীদের সঙ্গে স্মৃতিবিজড়িত সেলফিও তোলেন।
এরপর তিনি রান্নাঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বেগুন ভর্তা প্রস্তুত এবং রাজহাঁসের মাংস রান্নার প্রক্রিয়া তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সব প্রস্তুতি কাছ থেকে দেখার পর রাষ্ট্রদূত তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বসেন রাজশাহীর বিখ্যাত খাবারের স্বাদ নিতে। ধোঁয়া ওঠা গরম কালাই রুটি, মশলাদার রাজহাঁসের মাংস এবং দেশীয় স্বাদের বেগুন ভর্তা উপভোগ করেন তারা। খাওয়া শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, কালাই রুটি, হাঁসের মাংস এবং বেগুন ভর্তার স্বাদ তাঁর কাছে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। এক কথায় খাবারগুলো ছিল “দারুণ মজা”।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই রুমন কালাই হাউজের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিদেশি কূটনীতিকের রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগের দৃশ্য এক নজর দেখতে সেখানে ভিড় করেন।
রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি পুরো সময়টি নির্বিঘ্নে কাটান।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজশাহীর কালাই রুটি শুধু একটি খাবার নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের শত বছরের খাদ্য ঐতিহ্যের অংশ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। একজন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন প্রশংসা এই ঐতিহ্যবাহী খাবারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সৈয়দ মাসুদ,রাজশাহী 




















