ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী কে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক মিজানুর গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল থেকে তোলা । ছবি- দৈনিক অধিকার।

যে শিক্ষকের হাতে বই থাকার কথা, যার কণ্ঠে থাকার কথা নৈতিকতার পাঠ, যার কাছে অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে সন্তানদের ভবিষ্যৎ তুলে দেন-সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠেছে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলা ঘিরে জেলায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং ৬। তারিখ ৪/৬/২০২৬। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন।

জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় (টাউন হাইস্কুল)-এর সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রাইভেট পড়ত। প্রাইভেট পড়ার সময় সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান পৌর এলাকার সাহেবা (শাহীবাগ) এলাকায় নিজ বসতবাড়ির একটি কক্ষে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
লজ্জা ও ভয়ে শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।

পরবর্তীতে আসামি মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়ে বলেন, “তুমি যদি আমার কথা না শোনো, তাহলে পূর্বের সব ঘটনা তোমার বান্ধবীদের কাছে বলে দেব এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমাকে প্রাণে শেষ করে ফেলব।” এই ভয়ভীতি দেখিয়ে আসামি মোঃ মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন।

সর্বশেষ গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শাহীবাগে আসামির নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করেন।
একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে চলতি মাসের ২ জুন রাতে পরিবারের সদস্যরা তার মন খারাপের কারণ জানতে চাইলে সে কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
মেয়ের কথা শুনে ৩ জুন ২০২৬ (বুধবার) বিকেলে ভুক্তভোগীর পরিবার এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধর্ষক মিজানুর রহমানের বসতবাড়িতে যায় এবং ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়। আসামি সঠিক উত্তর না দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ করলে উপস্থিত জনতা তাকে মারধর করে আটক করে।

পরে বাংলাদেশ পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।পুলিশ আসামি মিজানুর রহমানকে আটক করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর- ০৬, জি.আর. নং- ২৪৮/২৬। আরও জানা গেছে, এঘটনায় একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক (শারিরিক শিক্ষা) মোঃ আব্দুল মতিনও জড়িত আছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। তবে, সহকারী শিক্ষক মিজানুর গ্রেফতারের পর থেকে আব্দুল মতিন পলাতক রয়েছেন।

 

গ্রেফতার সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। অভিযোগকারী পিতা সুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাইভেট পড়ানোর সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীকে নিজের ফাঁদে আটকে ফেলেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে শিক্ষার্থীকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন ভয়, আতঙ্ক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থেকেও মুখ খুলতে পারেনি সে। কিন্তু শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অভিযোগের ভয়ংকর বর্ণনা।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নয়, এটি শিক্ষকতার মহান পেশার প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ হওয়ার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক মিজানুর কে ঘিরে এমন অভিযোগ পুরো শিক্ষাঙ্গনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে তোলা ছবি।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, “শিক্ষক যদি নিরাপত্তার প্রতীক না হয়ে ভয় ও শঙ্কার কারণ হয়ে ওঠেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা কার কাছে নিরাপদ থাকবে?” অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বিদ্যালয় ও প্রাইভেট শিক্ষার পরিবেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি।
একটি সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন
এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের নৈতিক সীমারেখা এবং প্রাইভেট শিক্ষাব্যবস্থার পর্যবেক্ষণের প্রশ্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন জানান, নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এর
এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে সদর মডেল থানায় শিশু ধর্ষণ আইনে একটি মামলা হয়েছে এবং একমাত্র আসামি কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী দুইজন শিক্ষক জড়িত আছে যেহেতু একজন শিক্ষককে আসামী করে এজাহার দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী একজনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর ২২ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দি নেওয়া হবে জানান ওসি একরামুল হোসাইন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে
তিনি বলেন শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক দ্বারা এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এটি লজ্জার বিষয়। তিনি আরো বলেন যদি সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সত্য তা প্রমাণিত হয়
তাহলে সে শিক্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী কে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক মিজানুর গ্রেফতার

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

যে শিক্ষকের হাতে বই থাকার কথা, যার কণ্ঠে থাকার কথা নৈতিকতার পাঠ, যার কাছে অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে সন্তানদের ভবিষ্যৎ তুলে দেন-সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠেছে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলা ঘিরে জেলায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং ৬। তারিখ ৪/৬/২০২৬। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন।

জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় (টাউন হাইস্কুল)-এর সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রাইভেট পড়ত। প্রাইভেট পড়ার সময় সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান পৌর এলাকার সাহেবা (শাহীবাগ) এলাকায় নিজ বসতবাড়ির একটি কক্ষে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
লজ্জা ও ভয়ে শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।

পরবর্তীতে আসামি মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়ে বলেন, “তুমি যদি আমার কথা না শোনো, তাহলে পূর্বের সব ঘটনা তোমার বান্ধবীদের কাছে বলে দেব এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমাকে প্রাণে শেষ করে ফেলব।” এই ভয়ভীতি দেখিয়ে আসামি মোঃ মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন।

সর্বশেষ গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শাহীবাগে আসামির নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করেন।
একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে চলতি মাসের ২ জুন রাতে পরিবারের সদস্যরা তার মন খারাপের কারণ জানতে চাইলে সে কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
মেয়ের কথা শুনে ৩ জুন ২০২৬ (বুধবার) বিকেলে ভুক্তভোগীর পরিবার এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধর্ষক মিজানুর রহমানের বসতবাড়িতে যায় এবং ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়। আসামি সঠিক উত্তর না দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ করলে উপস্থিত জনতা তাকে মারধর করে আটক করে।

পরে বাংলাদেশ পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।পুলিশ আসামি মিজানুর রহমানকে আটক করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর- ০৬, জি.আর. নং- ২৪৮/২৬। আরও জানা গেছে, এঘটনায় একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক (শারিরিক শিক্ষা) মোঃ আব্দুল মতিনও জড়িত আছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। তবে, সহকারী শিক্ষক মিজানুর গ্রেফতারের পর থেকে আব্দুল মতিন পলাতক রয়েছেন।

 

গ্রেফতার সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। অভিযোগকারী পিতা সুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাইভেট পড়ানোর সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীকে নিজের ফাঁদে আটকে ফেলেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে শিক্ষার্থীকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন ভয়, আতঙ্ক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থেকেও মুখ খুলতে পারেনি সে। কিন্তু শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অভিযোগের ভয়ংকর বর্ণনা।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নয়, এটি শিক্ষকতার মহান পেশার প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ হওয়ার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক মিজানুর কে ঘিরে এমন অভিযোগ পুরো শিক্ষাঙ্গনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে তোলা ছবি।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, “শিক্ষক যদি নিরাপত্তার প্রতীক না হয়ে ভয় ও শঙ্কার কারণ হয়ে ওঠেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা কার কাছে নিরাপদ থাকবে?” অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বিদ্যালয় ও প্রাইভেট শিক্ষার পরিবেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি।
একটি সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন
এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের নৈতিক সীমারেখা এবং প্রাইভেট শিক্ষাব্যবস্থার পর্যবেক্ষণের প্রশ্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন জানান, নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এর
এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে সদর মডেল থানায় শিশু ধর্ষণ আইনে একটি মামলা হয়েছে এবং একমাত্র আসামি কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী দুইজন শিক্ষক জড়িত আছে যেহেতু একজন শিক্ষককে আসামী করে এজাহার দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী একজনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর ২২ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দি নেওয়া হবে জানান ওসি একরামুল হোসাইন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে
তিনি বলেন শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক দ্বারা এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এটি লজ্জার বিষয়। তিনি আরো বলেন যদি সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সত্য তা প্রমাণিত হয়
তাহলে সে শিক্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।