
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার একদিনে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, বগুড়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী, কিশোর, যুবক এবং একজন কলেজশিক্ষকও রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলাতেই মারা গেছেন তিনজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বৃষ্টির সময় আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন শিবগঞ্জ উপজেলার চকনরেন্দ্র গ্রামের মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি বাজারপাড়া এলাকার সাদিয়া খাতুন এবং শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মেসবাউল। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় গরু আনতে মাঠে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে প্রাণ হারান সুমিয়ারা বেগম।
স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও মুক্তাগাছা উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছেন।
গফরগাঁও উপজেলার মধ্য লামকাইন এলাকায় বাড়ির আঙিনায় কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন সিয়াম (২৮)। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মুক্তাগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায় একটি মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকির সময় বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে মারা যান গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
একই ঘটনায় সেরিনা বেগম নামে এক গৃহবধূ আহত হন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুট্টা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের জন্য একটি বেলচা আনতে বাড়ি গিয়ে ফেরার পথে তিনি বজ্রপাতের কবলে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে মরিচক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
একই ঘটনায় তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বজ্রপাতে নাফিজ আহমেদ শান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে তিনি ও তার চাচাতো ভাই নাহিদ বাড়ির ছাদে বসে ছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা দুজনই আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাফিজকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাহিদ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু স্থান, গাছের নিচে কিংবা ছাদে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ের সময় কৃষিকাজ বা বাইরে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
একদিনে দেশের ছয় জেলায় ১১ জনের প্রাণহানির এ ঘটনা আবারও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

















