
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে এক বছরের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র অংশ নেয়। ভোট গণনা শেষে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
জাতিসংঘের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচন করা হয়। এ বছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রার্থীর জন্য পদটি নির্ধারিত ছিল। শুরুতে বাংলাদেশ, সাইপ্রাস ও ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কথা থাকলেও ভোটের আগে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি। এর আগে ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
গত মে মাসে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সে সময় তিনি সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
ওই অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনক্রমে তিনি নির্ধারিত সময়ের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা ছুটিতে থেকে এ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামগুলোর একটির নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়া দেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 





















