ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

‘প্রতিটি মানুষের কথা ভেবেই আগামীর বাজেট’-অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনীতির সুফল যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এমন একটি বাজেট প্রস্তুত করছে যা কেবল রাজস্ব আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষের কথা বিবেচনায় রেখেই আগামীর বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গতি বাড়াতে এবং প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তাই নতুন বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ কারণে নতুন বাজেটে শিল্প, উৎপাদন ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে অর্থনীতিকে অতিরিক্ত ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে পরিচালিত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।

তার ভাষায়, “দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে যেতে হবে। উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব এখনও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং গতিশীল করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি সহজ নয়। তারপরও আমরা আশাবাদী যে নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী প্রবৃদ্ধির নতুন ভিত্তি তৈরি করবে।”

অর্থমন্ত্রী পুনরায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে হলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন প্রাণসঞ্চার করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেট বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতের বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেটে শুধু বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সরকার যে বাজেটের কথা বলছে, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘প্রতিটি মানুষের কথা ভেবেই আগামীর বাজেট’-অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনীতির সুফল যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এমন একটি বাজেট প্রস্তুত করছে যা কেবল রাজস্ব আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষের কথা বিবেচনায় রেখেই আগামীর বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গতি বাড়াতে এবং প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তাই নতুন বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ কারণে নতুন বাজেটে শিল্প, উৎপাদন ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে অর্থনীতিকে অতিরিক্ত ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে পরিচালিত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।

তার ভাষায়, “দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে যেতে হবে। উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব এখনও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং গতিশীল করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি সহজ নয়। তারপরও আমরা আশাবাদী যে নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী প্রবৃদ্ধির নতুন ভিত্তি তৈরি করবে।”

অর্থমন্ত্রী পুনরায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে হলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন প্রাণসঞ্চার করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেট বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতের বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেটে শুধু বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সরকার যে বাজেটের কথা বলছে, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।