
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। চার্জ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গত ২৪ মে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে চার্জ গঠনের শুনানির জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, চার্জ গঠনের শুনানি শেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করে রায় ঘোষণার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী।
তিনি জানান, আদালতের অবকাশকালীন ছুটি চলমান থাকলেও এ মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।অভিযোগপত্রে মোট ১৮ জন সাক্ষীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র গ্রহণের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত ২০ মে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।এদিকে মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পল্লবীর শিশুহত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করবে।তিনি বলেন, “আমাদের হাতে থাকা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা আশা করছি, আদালত আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করবেন।”
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, নিহত শিশু পল্লবীর একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান।অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর সোহেল রানা গলা কেটে হত্যা করে। পরে ওই বাসা থেকেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।সোমবারের শুনানির মাধ্যমে মামলাটি নতুন ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বহুল আলোচিত এ মামলার নিষ্পত্তির দিকে নজর রাখছে দেশবাসী।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

















