ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ভেজাল সার: পলিথিন-আবর্জনা পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা

কামারখন্দ উপজেলা কৃষি চত্বরে বিতরণকৃত সারের বস্তায় পলিথিন ও আবর্জনা দেখে ক্ষুব্ধ কৃষকরা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চারা ও সার বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জৈব সারের বস্তায় পলিথিন, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষকরা। অবশেষে ভেজাল সার প্রত্যাখ্যান করে শুধু গাছের চারা ও বাঁশের কাঠি নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তারা।বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই চারা ও সার বিতরণ করা হচ্ছিল। উপজেলার ২০০ জন কৃষক ও ১০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আম, জলপাই, নিম ও মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণের কথা। প্রতিটি চারার সঙ্গে পরিচর্যার জন্য ৩০ কেজি করে জৈব সার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিতরণকৃত সারের বস্তা খুলতেই কৃষকরা ভেতরে পলিথিন, প্লাস্টিক ও নানা ধরনের বর্জ্য দেখতে পান।

উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, সরকারি কর্মসূচির নামে তাদের সঙ্গে রীতিমতো প্রতারণা করা হয়েছে। জৈব সারের বস্তায় ময়লা-আবর্জনা ভরে দেওয়া হয়েছিল। সেই বর্জ্য না নিয়ে শুধু চারা নিয়েই ফিরে এসেছেন তিনি।

রঞ্জু নামের আরেক কৃষক বলেন, আগে কৃষি অফিস থেকে যেসব সার পাওয়া যেত, সেগুলোর মান ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু এবার বস্তার ভেতরে যা দেখেছেন, তা জমিতে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।

একাধিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাও এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা স্বীকার করেছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে সার এনেছে তা সম্পূর্ণ মানহীন। শুধু সার নয়, চারা সোজা রাখার জন্য আস্ত বাঁশের খুঁটির বদলে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে নামমাত্র ফাঁটানো বাঁশ। চারাগুলোর মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।

উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল কবির জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সরকারি প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন জানান, মানহীন সারের বস্তাগুলো বাদ দিয়ে কৃষকদের ভালো সার বেছে নিতে বলা হয়েছে এবং সরবরাহকারীকে ভেজাল সার ফেরত পাঠানো হবে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার সরবরাহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপাশা হোসাইন জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারীকে দ্রুত ভালো মানের জৈব সার সরবরাহ করে পুনরায় কৃষকদের মধ্যে বিতরণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুরে মাওলা জানান, জেলায় মোট ১৪ হাজার ৬৫০ জন কৃষককে জৈব সার ও চারা দেওয়া হচ্ছে। কেজিপ্রতি মাত্র চার টাকা দরে সার সংগ্রহের বরাদ্দ থাকায় মানসম্পন্ন সার সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। কামারখন্দের ঘটনায় সরবরাহকারীকে নতুন করে মানসম্পন্ন সার সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা আসতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ভেজাল সার: পলিথিন-আবর্জনা পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চারা ও সার বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জৈব সারের বস্তায় পলিথিন, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষকরা। অবশেষে ভেজাল সার প্রত্যাখ্যান করে শুধু গাছের চারা ও বাঁশের কাঠি নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তারা।বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই চারা ও সার বিতরণ করা হচ্ছিল। উপজেলার ২০০ জন কৃষক ও ১০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আম, জলপাই, নিম ও মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণের কথা। প্রতিটি চারার সঙ্গে পরিচর্যার জন্য ৩০ কেজি করে জৈব সার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিতরণকৃত সারের বস্তা খুলতেই কৃষকরা ভেতরে পলিথিন, প্লাস্টিক ও নানা ধরনের বর্জ্য দেখতে পান।

উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, সরকারি কর্মসূচির নামে তাদের সঙ্গে রীতিমতো প্রতারণা করা হয়েছে। জৈব সারের বস্তায় ময়লা-আবর্জনা ভরে দেওয়া হয়েছিল। সেই বর্জ্য না নিয়ে শুধু চারা নিয়েই ফিরে এসেছেন তিনি।

রঞ্জু নামের আরেক কৃষক বলেন, আগে কৃষি অফিস থেকে যেসব সার পাওয়া যেত, সেগুলোর মান ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু এবার বস্তার ভেতরে যা দেখেছেন, তা জমিতে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।

একাধিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাও এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা স্বীকার করেছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে সার এনেছে তা সম্পূর্ণ মানহীন। শুধু সার নয়, চারা সোজা রাখার জন্য আস্ত বাঁশের খুঁটির বদলে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে নামমাত্র ফাঁটানো বাঁশ। চারাগুলোর মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।

উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল কবির জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সরকারি প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন জানান, মানহীন সারের বস্তাগুলো বাদ দিয়ে কৃষকদের ভালো সার বেছে নিতে বলা হয়েছে এবং সরবরাহকারীকে ভেজাল সার ফেরত পাঠানো হবে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার সরবরাহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপাশা হোসাইন জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারীকে দ্রুত ভালো মানের জৈব সার সরবরাহ করে পুনরায় কৃষকদের মধ্যে বিতরণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুরে মাওলা জানান, জেলায় মোট ১৪ হাজার ৬৫০ জন কৃষককে জৈব সার ও চারা দেওয়া হচ্ছে। কেজিপ্রতি মাত্র চার টাকা দরে সার সংগ্রহের বরাদ্দ থাকায় মানসম্পন্ন সার সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। কামারখন্দের ঘটনায় সরবরাহকারীকে নতুন করে মানসম্পন্ন সার সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা আসতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।